ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গ হারিয়ে কিংবা বাবা-মাকে হারিয়ে, যুদ্ধের নির্মম স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে গাজার অসংখ্য শিশু। তাদের সেই ক্ষত ও মানসিক ট্রমা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েভস অব হোপ। এই প্রকল্পের আওতায় সাঁতার ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
ইসরায়েলি হামলায় কেউ হারিয়েছে হাত কিংবা পা, কেউ হারিয়েছে মা-বাবাকে। যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি আর মানসিক ট্রমা নিয়েই বেড়ে উঠছে গাজার এসব শিশু। তবে সবকিছু হারিয়েও থেমে নেই তারা। সাঁতারের মধ্য দিয়ে খুঁজছে নতুন করে বাঁচার সাহস।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তরে কারারা এলাকায় চলছে ওয়েভস অব হোপ প্রকল্প। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সাঁতার, খেলাধুলা ও বিনোদনের মাধ্যমে মানসিক চাপ ও ভয় কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করাই এর লক্ষ্য।
প্রকল্পটিতে অংশ নিচ্ছে ৯০ শিশু। তাদের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গ হারিয়েছে ৪০ জন। আর মা-বাবা হারানো শিশুর সংখ্যা অর্ধশত।
প্রশিক্ষকদের একজন নূর আল-দ্বীন কাশকাস নিজেও ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে হারিয়েছেন পা। যুদ্ধের আগে তিনি ছিলেন সাঁতার প্রশিক্ষক ও লাইফগার্ড। নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই এখন শিশুদের সাঁতার শেখাচ্ছেন তিনি।
নূর আল-দ্বীন কাশকাস বলেন, ‘নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার শেখার পাশাপাশি একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে গাজার শিশুরা। এতে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ ও ভয় কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারছে তারা।’
মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানতিশ সুইমিং একাডেমির কোচ রানা তানতিশ। তাঁর কাছে শুরুতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যুদ্ধের ভয় নিয়ে পানিতে নামতে না চাওয়া শিশুদের আবার বিশ্বাস করতে শেখানো।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৪ হাজার শিশু অঙ্গ হারিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি শিশু অঙ্গ হারানোর নির্মম বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে গাজা।



