আগস্ট মাসে আবাসিক খাতে তীব্র গ্যাস সংকট ও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে এই মাসের নির্ধারিত গ্যাস বিল না আদায়ের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আবেদন করেছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকদের অনেক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের সরবরাহ ছিল না, কিংবা রান্নার জন্য ন্যূনতম যে চাপের প্রয়োজন, তাও পাওয়া যায়নি।
আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়, যেসব নন-মিটার্ড বা নির্ধারিত মাসিক হারের আবাসিক গ্রাহক গ্যাস ব্যবহার করার সুযোগই পাননি বা মাসজুড়ে সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে পূর্ণ মাসের বিল আদায় করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত হতে পারে না। গ্যাস সেবা না পেয়েও অনেক গ্রাহককে রান্নার জন্য বাধ্য হয়ে এলপিজি বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এর ওপর আবার বিইআরসি নির্ধারিত পূর্ণ মাসের গ্যাস বিল আদায় করা হলে গ্রাহকরা দ্বৈত আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এই স্মারকপত্রে কমিশনকে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কয়েকটি জরুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এলাকাভিত্তিক সরবরাহের সময়, চাপ ও ঘাটতির তথ্য নিয়ে আগস্ট মাসের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।
দ্বিতীয়ত, যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ ছিল না, সেখানকার নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের আগস্টের পূর্ণ বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং সেবার ঘাটতি অনুযায়ী বিলে ছাড় বা সম্পূর্ণ মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়া। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা নিম্নচাপ থাকলে আলাদা আবেদনের ঝামেলা ছাড়াই যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল সমন্বয় হয়, সে বিষয়ে স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করা।
এর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক দৈনিক গ্যাস সরবরাহের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং গ্যাস সংকটজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করারও দাবি জানায় নাগরিক সমাজ।
সংগঠনটির মতে, সেবা না থাকলে তার পূর্ণ মূল্য আদায় করা কোন ভোক্তাবান্ধব আচরণ হতে পারে না। তাই নাগরিক অধিকার এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত বিল প্রদান ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় 'সেবা না থাকলে বিল নয়' নীতি বাস্তবায়নে বিইআরসি'র কার্যকর হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়েছে।



