এ বছরের মধ্যেই চালু হবে নতুন পে স্কেল। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের সন্দেহ, এত টাকা কোথায় পাবে সরকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার জোগান দিতে কর বাড়াতে হবে, অথবা অন্য খাতে বরাদ্দ কমাতে হবে। ঋণ করে বা টাকা ছাপিয়ে এ চাপ সামলানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন তারা। আর তাই আরও পর্যালোচনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারে এখন প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ কর্মচারী। তাদের সবশেষ পে-স্কেল দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার।
প্রথমে কেবল মূল বেতন কার্যকর হবে। এর পরের বছর দেওয়া হবে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের টাকা বাজেটে জোগান দিতে হয় কর বাড়াতে হবে, না হয় অন্য খাতে বরাদ্দ কমাতে হবে। অথবা ঋণ নিতে হবে, কিংবা টাকা ছাপাতে হবে। সামগ্রিকভাবে সরকারের খরচ বাড়বে, চাপ পড়বে বেসরকারি খাতে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সিপিডি'র গবেষণা পরিচালিক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'এটাকে (যদি) খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়নের দিকে সরকার আগান, সুস্পষ্ট একটা পথনির্দেশিকা এখানে আসতে হবে। কিন্তু সেই সময়ের ভেতরেও কিন্তু সম্পদ সংগ্রহে যে আমাদের ঘাটতি আছে, আমাদের যে দুর্বলতা আছে, এটাকে কিন্তু পূরণ করাটা দরকার।'
অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির কথা যদি বিবেচনা করেন, সরকার অর্থায়ন করবে কোথা থেকে, যদি যথেষ্ট পরিমাণ রেভিনিউ সংগ্রহ না করতে পারে। অতএব সেই জায়গায় সরকারকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।
তাদের মতে, কর্মচারীদের জীবনমান আর অর্থনীতির ভারসাম্য দুটোতেই নজর রাখতে হবে সরকারকে।



