খুলনার পাইকগাছার আলোচিত সবুজ রঙের মাংস পঁচা ছিল না। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আলোচিত সেই গরুর মাংস পরীক্ষা করে তাতে কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পায়নি সংস্থাটি। বরং রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে মাংসের রঞ্জক উপাদান মায়োগ্লোবিন বা হিম-উৎপন্ন পিগমেন্টের রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে মাংস সবুজ রঙ ধারণ করে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারিতে রান্না করা গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় নমুনায় কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে সবুজাভ বর্ণ সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মাংসের রঙ পরিবর্তন ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়নি। রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে মাংসের স্বাভাবিক রঞ্জক উপাদান মায়োগ্লোবিন বা হিম-উৎপন্ন পিগমেন্টের রাসায়নিক রূপান্তরের ফলে এমন সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা অঞ্চলের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা বনভোজনের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে সেটির রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যেতে দেখেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
পরে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সে সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রাসায়নিক বা অণুজীবজনিত বিভিন্ন কারণ পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।



