পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর রোববার বিকেলে চুল্লিতে এ বিক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের ফিশন বা নিউক্লিয়ার বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি থেকে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের চাপে ঘুরবে টারবাইন, যার মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে জ্বালানি লোডিং ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর আগে, কয়েক দিন আগে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটিভ রিলিফ ভালভের ত্রুটি নিরসন করা হয়। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ১৬ ও ১৮ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে ভালভটির পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।


