আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন ম্যারিয়ট চালু হচ্ছে বাংলাদেশে। আগামী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভালুকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে এই পাঁচ তারকা হোটেল।
শনিবার ম্যারিয়ট হোটেলের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেস্ট হোল্ডিংস পিএলসির কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম আজাদ।
তিনি জানান, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেস্ট হোল্ডিংসের অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ভালুকায় বর্তমানে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মোবাইল ফোন সংযোজনসহ আড়াই হাজারের বেশি শিল্পকারখানাকে টার্গেট করেই এসব প্রকল্পগুলো তৈরির উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, ‘এ হোটেলটি শিল্পখাত ও পাঁচতারা সেবার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। এখানে শুধু অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাই থাকছে না, পাশাপাশি দেশের নতুন শিল্পাঞ্চলগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। এলাকাটিকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখানে পণ্য সরবরাহকারীদের এক্সপো, বাণিজ্য সম্মেলন ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪ দশমিক ৪৭ একর জমির ওপর হোটেলটি তৈরি হচ্ছে। দেশে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাদেরকে বিলাসবহুল আবাসন সেবা দেওয়ার কথা মাথায় রেখে এই হোটেলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। হোটেলটিতে থাকবে ২২৮ কক্ষ। অতিথিদের চাহিদা মেটাতে থাকবে আধুনিক সুবিধা। এসব সুবিধার মধ্যে আছে উচ্চগতির ইন্টারনেট, স্মার্ট ওয়ার্ক স্টেশন, বড় পরিসরে মিটিং হল, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাকেন্দ্র, বিনোদন স্থান, স্পা ও ফিটনেস পরিষেবা।
হোটেলটির পরিষেবা, খাদ্য ও পানীয়, প্রশাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ৫০০-এর বেশি মানুষের কাজের সুযোগ হবে। পরোক্ষভাবে লজিস্টিক, ক্যাটারিং ও পরিবহন খাতে স্থানীয়দের কাজের সুযোগ করবে। এছাড়া বেস্ট হোল্ডিংস পিএলসির মালিকানায় ভালুকাতে ৫৩ একর জায়গার ওপর লাক্সারি ইন্টারন্যাশনাল চেইন রিসোর্ট লাক্সারি কালেকশনস অ্যান্ড ভিলার কাজ চলমান রয়েছে। মূলত উচ্চ-মধ্যবিত্ত পর্যটক, অবকাশযাপনকারী, ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে ১৪০ কক্ষ বিশিষ্ট রিসোর্ট রয়েছে।
এদিকে বেস্ট হোল্ডিংসের প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক বোর্ডিং স্কুল চেইন হেইলিবেরি ভালুকা ২০২৪ সালের আগস্ট সেশনের ক্লাস শুরু করেছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ আবাসিক পরিবেশে ষষ্ঠ থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় ব্যাচের ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। পরে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে-বলেন আবুল কালাম আজাদ।
তিনি জানান, হেইলিবেরি ভালুকার প্রথম ব্যাচের শতভাগ শিক্ষার্থীই ২৫-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষগুলোতেও হেইলিবেরি ভালুকায় ভর্তি হলেই ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১৬০ বছর আগে যুক্তরাজ্যে এর যাত্রা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিদ্যালয়ের শাখা রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ৬১ শতাংশই হার্ভার্ড, এমআইটি, এলএসই, অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজের মতো আইভি লিগ এবং রাসেল গ্রুপ প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন।



