৪ হাজার কোটি রুপি! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! এই বিশাল বাজেটে তৈরি ‘রামায়ণ’ নিয়ে সিনেমাপাড়ায় রীতিমতো হইচই। কেউ বলছেন, একেবারে নেক্সট লেভেল! আবার কারও মতে, এত টাকা খরচ করে এমন সিনেমা?
একদিকে হলিউডের কিংবদন্তি হান্স জিমার, অন্যদিকে এ আর রহমান। রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, রাবণ হয়েছেন যশ, আর সীতা সাই পল্লবী। তার ওপর পরিচালনায় ‘দঙ্গল’খ্যাত নীতেশ তিওয়ারি। মানে স্টারকাস্ট থেকে মিউজিক—সবই ফুল অন পাওয়ার প্যাকেজ!
এত হাইপের পর সিনেমাটা কি সত্যিই পয়সা উসুল?
গল্পটা আমাদের প্রায় সবারই চেনা। অযোধ্যার রাজপুত্র রাম। রাজা হওয়ার কথা থাকলেও সৎমা কৈকেয়ীর ষড়যন্ত্রে যেতে হয় বনবাসে। সঙ্গে স্ত্রী সীতা আর ভাই লক্ষ্মণ। অন্যদিকে লঙ্কায় বসে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন রাবণ। আর এই দুই চরিত্রের সংঘাতেই তৈরি হয় মহাকাব্যিক এক গল্প।
তবে চেনা গল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এখানেই সিনেমার স্টোরি ও স্ক্রিনপ্লে বেশ ইন্টারেস্টিং। রাজপ্রাসাদের পলিটিকস, পারিবারিক ইমোশন, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতিশোধ—সবকিছু মিলিয়ে গল্পে রয়েছে যথেষ্ট ড্রামা। বিশেষ করে রাবণের অতীত তুলে ধরায় চরিত্রটি শুধু একজন ভিলেন হয়ে থাকেনি, পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
তবে তিন ঘণ্টার সিনেমায় এত বিশাল গল্প সামলানো সহজ নয়। কিছু জায়গায় গল্পের গতি ধীর মনে হতে পারে। আবার পরিচিত ঘটনাগুলো নতুন করে দেখানোর চেষ্টাও সব সময় সমানভাবে কাজ করেনি।
এবার আসি অভিনয়ে।
রণবীর কাপুরের রাম হওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই ছিল আলোচনায়। তাঁর চরিত্রে প্রয়োজন সংযম, ব্যক্তিত্ব আর গভীর আবেগ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও রণবীরের এক্সপ্রেশন যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। সাই পল্লবীর অভিনয় নিয়েও একই অভিযোগ। তবে যশের রাবণ এবং লারা দত্তের কৈকেয়ী চরিত্র তুলনামূলকভাবে বেশি নজর কেড়েছে।
অর্থাৎ স্টার পাওয়ার আছে, কিন্তু পারফরম্যান্সে সবাই কি সমানভাবে ইমপ্রেস করতে পেরেছেন? উত্তরটা একেবারে সিম্পল নয়।
এবার আসল গেম—ডিরেকশন আর ভিএফএক্স!
উড়ন্ত পুষ্পক বিমান, রাবণের দশ মাথা, বিশাল রাজপ্রাসাদ আর পৌরাণিক জগৎ। সব মিলিয়ে সিনেমাটিকে হলিউড লেভেলে নেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তো রীতিমতো মুগ্ধ! তাদের রিভিউতে ‘রামায়ণ’-এর তুলনা এসেছে ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’ আর ‘দ্য লায়ন কিং’-এর সঙ্গে। বিশেষ করে সিনেমার বিশাল ক্যানভাস, সূর্যাস্তের দৃশ্য আর গল্প বলার ধরন পেয়েছে প্রশংসা।
কিন্তু এখানেই আছে টুইস্ট!
সবাই যে এতটা ইমপ্রেসড, তা কিন্তু নয়। আরেকটি রিভিউতে সিনেমার ভিএফএক্স নিয়ে রীতিমতো তুলোধুনো করা হয়েছে। অভিযোগ, কিছু দৃশ্য এতটাই আনরিয়েল যে মনে হয় ভিডিও গেমের কাটসিন চলছে। ভিএফএক্স নিয়ে জটিলতা খোলা চোখেও যে কারও নজরে পড়বে।
শুধু তাই নয়, কালার গ্রেডিং, লাইটিং এবং ক্যামেরার ফ্রেমিং নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এমনকি হান্স জিমার আর এ আর রহমানের মিউজিকও কারও কারও কাছে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তাহলে এন্টারটেইনমেন্টের জায়গায় সিনেমাটি কতটা সফল?
যাঁরা মিথোলজি, ফ্যান্টাসি আর গ্র্যান্ড ভিজ্যুয়ালের ফ্যান, তাঁদের জন্য ‘রামায়ণ’ হতে পারে দারুণ এক সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স। তবে যাঁরা টাইট স্ক্রিনপ্লে, পাওয়ারফুল অ্যাক্টিং আর পারফেক্ট ভিএফএক্স আশা করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা কিছুটা মিক্সড হতে পারে।
আরেকটা বিষয়, ‘রামায়ণ’ শুধু সিনেমা নয়, কোটি মানুষের আবেগ। তাই দর্শকের এক্সপেকটেশনও আকাশছোঁয়া।
‘বাহুবলী’ একসময় দেখিয়েছিল, ভারতীয় মহাকাব্যিক গল্পও গ্লোবাল অডিয়েন্সকে মুগ্ধ করতে পারে। এবার সেই পরীক্ষায় ‘রামায়ণ’।
সব মিলিয়ে ফাইনাল ভার্ডিক্ট কী?
গল্পের শক্তি, বিশাল আয়োজন আর পৌরাণিক জগতের উপস্থাপনা সিনেমার প্লাস পয়েন্ট। অন্যদিকে অভিনয়ের অসংগতি এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস নিয়ে বিতর্ক বড় মাইনাস। এটাকে পাঁচের মধ্যে সাড়ে তিন দেওয়াই যায়।


