‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ অ্যালবাম নিয়ে আইনি বিপাকে পড়লেন মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফট। গায়িকার বিরুদ্ধে জেনেশুনে প্রায় একই রকম শিরোনাম ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন লেখক-গায়িকা ম্যারেন ওয়েড। আর এই অভিযোগে তিনি একটি মামলাও ঠুকে দিয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ম্যারেন ওয়েড। যেখানে তিনি ইউএমজি রেকর্ডিংস ও সুইফটের বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন ও অন্যায্য প্রতিযোগিতার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর ভাষ্য, দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল নামটি গত একযুগ ধরে গড়ে তোলা ‘কনফেশনস অব আ শোগার্ল’ ব্র্যান্ডকে ‘বিলীন’ করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ফলে সুইফট যেন অ্যালবামটির বর্তমান নাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন—আদালতের কাছে এই আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে হারানো মুনাফা, আইনজীবীর ফি ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন ওয়েড। এক বিবৃতিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী জেমি পার্কিনেন বলেন, ‘একজন একক শিল্পী ১২ বছর ধরে একটি ব্র্যান্ডকে গড়ে তুলেছেন, সেখানে তাঁর চেয়ে বড় কেউ এসে সেটি নাই করে দিবেন—এমনটা হতে দেওয়া উচিত নয়।’
রিয়্যালিটি শো ‘আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট’-এ অংশ নেওয়ার পর থেকেই আমেরিকার পরিচিত মুখ ম্যারেন ওয়েড। ২০১৪ সালে তিনি ‘লাস ভেগাস উইকলি’-তে ‘কনফেশনস অব আ শোগার্ল’ শিরোনামে কলাম লেখা শুরু করেন। এতে বিনোদন দুনিয়ার একজন হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এটি একটি পডকাস্ট ও লাইভ শো-তে পরিণত হয়, যেখানে থাকে পপ ও জ্যাজসংগীতের পরিবেশনা। ২০১৫ সালে কনফেশনস অব আ শোগার্ল ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেন তিনি।
এদিকে, গত বছর সুইফট তাঁর দ্বাদশ অ্যালবাম দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল প্রকাশ করেন। প্রথম সপ্তাহে এটি আমেরিকায় ৪০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ৫৫ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়ে সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড গড়ে।
মামলার অভিযোগ অনুসারে, সুইফট যখন দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল নিবন্ধন করার জন্য আবেদন করেছিলেন, তখন মার্কিন পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস তা প্রত্যাখ্যান করেছিল, যেহেতু তা ওয়েডের নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস উল্লেখ করেছিল যে, নাম দুটিতে ‘অব আ শোগার্ল’ নামের একটি মূল বাক্যাংশ রয়েছে। আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, দুটি নামই যদি সংগীত ও নাট্য পরিবেশনা-সম্পর্কিত বিনোদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ভোক্তাদের এই বিশ্বাসে পরিচালিত করবে যে দুটির মধ্যে হয়তো একধরনের যোগসূত্র রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনও টেইলর সুইফট কিংবা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার


রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি ক্ষতিপূরণ, প্রযোজনা সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্তি’র দাবি
