রাতের ঘটনা। গা ছমছমে গল্পের আবহে রাতের অন্ধকার সব সময়ই বাড়তি সুবিধা দেয়। অর্থাৎ, হরর জনরাতে অন্ধকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। তাই ভৌতিক রহস্যময় গল্পে রাতের দৃশ্য আবশ্যিকভাবেই রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণটা দর্শকের মনে ভয় ধরানো অবশ্যই। সেই আবশ্যিক অনুষঙ্গের সুবিধা নিয়েছেও অ্যান্থোলজি সিরিজ ‘প্রচলিত’। কিন্তু সেই সুবিধা কতটুকু কাজে লাগাতে পারল ‘প্রচলিত’ সিরিজের সদ্য মুক্তি পাওয়া গল্প ‘রিংটোন’? আদৌ কি বাজল রিংটোন?
দেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি’তে গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে ‘প্রচলিত’ সিরিজের প্রথম এপিসোড।
চরকি বলছে, ‘প্রচলিত’র গল্পগুলো হাঁটতে-চলতে কখনো মানুষের মুখে শোনা, কখনো পড়া, কিছু শৈশব থেকেই সাথে সাথে বড় হচ্ছে, এভাবেই ভাবনায় গেঁথে গেছে। সেসব ভাবনাকেই সমসাময়িকতার চাদরে জড়ানোর প্রতিফলন ‘প্রচলিত’।
আর ‘রিংটোন’-এর গল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, মজনু ছিনতাইকারী। একদিন সন্ধ্যায় এক লোকের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় জোরজবরদস্তিরত অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। বাসায় গিয়ে ব্যাগ খুলে দেখে একটা উপহারের বাক্স আছে সেখানে। সেই উপহারের বাক্স মজনুর জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনল কিনা—সেটি নিয়েই এগিয়েছে গল্প।
‘রিংটোন’-এ চরিত্রের সংখ্যা হাতেগোনা। মূলত মজনুরূপী মোস্তফা মন্ওয়ার একাই পুরো গল্প নিয়ে এগিয়েছেন। এ ধরনের গল্পের জন্য তিনি যথার্থ অভিনেতা। তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সংশয় তখনই জাগে, যখন দেখা যায় চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সুযোগ আসলে সীমিত। ‘রিংটোন’-এও ঠিক সেটিই হয়েছে।
‘রিংটোন’কে মিস্ট্রি ঘরানার বলে দাবি করা হয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। মিস্ট্রি হোক বা হরর—সেটি জমাট বাঁধতে কিছুটা সময় দিতে হয়, কিছু যথার্থ উপাদানও লাগে। গল্পের প্রবাহে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে রহস্য বা ভয়। তখনই সেটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু ‘রিংটোন’-এ যেন হুট করেই নিয়ে আসা হলো রহস্যকে। ভয় আমদানি হলো কার্যাদেশ দিয়ে। মোস্তফা মন্ওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন তাঁর চরিত্রের ট্রমাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার। কিন্তু ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় দর্শককেও তার সঙ্গে একাত্ম হওয়া প্রয়োজন। চরিত্রাভিনেতা হয়তো ভয় পাওয়ার অভিনয় করলেন, কিন্তু তা পর্দায় দেখতে বসা দর্শক যদি অনুভব করতে না-ই পারেন, তবে আর সার্থকতা কোথায়?
‘প্রচলিত’-এর প্রথম এপিসোড দেখার পর এটুকু বোঝা যায় যে, পাপ ও পাপের মূল্য চোকানো বিষয়ক প্রচলিত প্রবাদই ছিল এর মূল বিষয়। কিন্তু একজন পেশাদার ছিনতাইকারীর পাপবোধে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পর্দায় তুলে আনতে আরও কিছু সিকোয়েন্স প্রয়োজন ছিল হয়তো। মোট কথা, এপিসোডের দৈর্ঘ্য যৌক্তিকভাবে আরেকটু লম্বা করাই যেত। তাতে হয়তো দর্শককে গল্পের মধ্যে ঢোকানো যেত। আর তখনই দর্শকদের সন্তুষ্টি আদায় করা সহজ হতো অনেক।
‘রিংটোন’ পরিচালনা করেছেন মো. আবিদ মল্লিক। পরিচালনার পাশাপাশি ‘প্রচলিত’ সিরিজের গল্প ও চিত্রনাট্যও তাঁর। কাজের হিসাব কষলে নবীন নির্মাতার তকমাই পাবেন আবিদ মল্লিক। সেই হিসেবে, যাত্রার শুরুর দিকেই মিস্ট্রি ও কিছুটা হরর জনরা বেছে নেওয়ায় সাধুবাদ তিনি পেতেই পারেন। কারণ এদেশে এ ধরনের জনরা নিয়ে কাজ কম হলেও সুযোগ আছে অনেক।
এক কথায়, রিংটোন জোরে বাজতে গিয়ে মাঝপথেই থেমে গেছে। অবশ্য সামনে আরও চারটি গল্প মুক্তি পাবে ‘প্রচলিত’ সিরিজের। সামনের গল্পগুলোতে রহস্য কতটা ঠাসবুনটের হয়—সেটিই এখন দেখার।


অদৃশ্য কতটুকু দৃশ্যমান হলো?
‘খুফিয়া’তে বাঁধনকে নেওয়ার দরকার কি ছিল?
