‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ ওয়েব সিরিজটি হলো এক নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প। পুরো সিরিজে বাংলাদেশের খুলনার কলাপোতা গ্রামের ইন্দুবালা ধীরে ধীরে কলকাতার ছেনু মিত্র লেনের ইন্দুবালা হয়ে ওঠেন। রন্ধনশিল্পী প্রৌঢ়া ইন্দুবালা নানা পদের রান্না করেন। আর সেই রান্নার পরতে পরতে জুড়ে থাকে তাঁর জীবনের নানা গল্প। সেই গল্পের ব্যঞ্জনায় রান্না ও সিরিজ দুই-ই হয়ে ওঠে অমৃত। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে দেবালয় ভট্টাচার্যের পরিচালনায় তৈরি ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’।
একই নামে কল্লোল লাহিড়ির উপন্যাসটি যেমন দুর্দান্ত, তেমনি পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যও দেখিয়েছেন দারুণ মুনশিয়ানা। পুরো সিরিজে ইন্দুবালার বর্তমানের সাথে অতীত স্মৃতি-বিস্মৃতি ও আবেগের মিশেল ছিল অপূর্ব। এই সিরিজটি দেখা শেষ হলেও, এর কোনো কোনো গান, গল্প, সংলাপ ও দৃশ্যকল্প ঘুরে বেড়াবে দর্শকদের মানসভুগোলে।
এই সিরিজের গল্প, চিত্রনাট্য আর সংলাপের প্রসঙ্গে আসা যাক। উপন্যাসকে সিনেম্যাটিক প্লটে রূপান্তর এমনিতেই কঠিন। তবে তা বেশ সহজভাবেই এসেছে ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে। ইন্দুবালার জীবনের তিন ভাগ - শৈশব, সংসার জীবন ও হোটেল প্রতিষ্ঠার গল্প এসেছে এই সিরিজে। সেখানে আছে দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, আছে কলকাতার সত্তর দশকের উত্তাল রাজনীতিও। ভাতের হোটেলের গল্পের আড়ালে এ যেন রিফিউজি ইন্দুর উপড়ানো শিকড়ের যন্ত্রণার গল্প, অস্তিত্ব সংকটের গল্প। এ যেন নিজের সাথে নিজেরই যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা। ইন্দুবালার এক সংলাপেই তা মূর্ত হয়ে ওঠে, “আমি যুদ্ধ বলতে বুঝি মানুষের সাথে স্মৃতির যুদ্ধ। শুধু বুঝি না এ লড়াই মনে রাখার, না ভুলে যাওয়ার।“
এই সিরিজের গল্পকে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা গানের। গীতিকার, সুরকার ও পরিচালকের অসাধারন মেলবন্ধন, আর সম্পাদনার টেবিলে তার যথাযথ প্রয়োগ সিনেমাটিক টাইম অ্যান্ড স্পেসের সুন্দর এক জগতে নিয়ে যায়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জসিমউদ্দীন অতীত ও স্মৃতির সাথে মিলে বর্তমানে একাকার হয়।
ওটিটি’র দুনিয়ায় অভিষেকেই নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলি। গ্ল্যামারাস এই নায়িকা অভিনয় করেছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা ইন্দুবালার চরিত্রে। ইন্দুবালার মধ্য বয়স ও প্রৌঢ়ত্বকে শুভশ্রী খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তলেছেন আঙ্গিক ও বাচিক অভিনয়ে। চরিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ছাপ স্পস্ট । অভিনয়ের গুণে ও সোমনাথ কুন্ডুর রূপসজ্জায় ৭৫ বছরের ইন্দুবালার বৃষ্টিতে ভেজার দৃশ্য দর্শকদের মনে থাকবে দীর্ঘদিন। অন্যদিকে লছমী পাহান চরিত্রে স্নেহা চ্যাটার্জি ছিলেন অনবদ্য। স্নেহার সাবলীল সহজাত অভিনয় ইন্দুবালার চরিত্রকে আরও পূর্ণ করে তোলে। মনের অজান্তে কখন যেন লছমী পাহান ও ইন্দুবালা মল্লিক একে-অপরের বোন হয়ে ওঠে! সে সম্পর্ক জীবন্ত থেকে যায় মৃত্যুর পরও।
এ ছাড়া সঞ্চারী হিসেবে অঙ্গনা রায়, মনিরুল চরিত্রে দেব দত্ত রাহা, রতনলাল মল্লিকের চরিত্রে প্রতীক দত্ত, ধনঞ্জয় হিসেবে দেবপ্রতীম দাশগুপ্ত ছিলেন যথার্থ। ইন্দুবালার পাশাপাশি লছমী, ধনা, মনিরুল দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে।
মন ছুঁয়ে যাওয়া সংগীতের পরিচালনায় ছিলেন অমিত চ্যাটার্জি। জাদুকরী সম্পাদনায় ছিলেন সংলাপ ভৌমিক। সিরিজটির সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। নির্মাণের প্রতিটা শাখায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইন্দুবালা ভাতের হোটেল এপার -ওপার বাংলার এক নিখুঁত নকশীকাঁথা যেন। যে নকশিকাঁথার গল্পে ইন্দুবালার ভাতের হোটেল থেকে কেউ না খেয়ে ফিরে যায় না। যে গল্পে ইন্দুবালা নিজের গ্রামে টুরিস্ট হয়ে ফিরে না গিয়ে, তার বদলে স্মৃতিকে আঁকড়ে নিজের মতো করে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে বেঁচে থাকে।
এই ওয়েব সিরিজটির মধ্য দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর কাছে সাহিত্যনির্ভর সিরিজ বা ফিল্মের প্রত্যাশা কিছুটা বেড়েই গেল। আট পর্বের ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে’কে গান, গল্প ও অভিনয়ে দর্শক মনে রাখবে দীর্ঘকাল।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর বন্দুক হামলার সময় গুলিতে আহত হয়েছেন উমেশ কুমার চৌহান নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহুর পুষ্পা পার্ক এলাকায় তিনি এই তারকার আগমনকে ফ্রেমবন্দি...
মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় অক্ষত রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ও কাছাকাছি...
নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে নিজেকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। নাটকের কাজ কমিয়ে দিয়ে এখন ওটিটি দুনিয়াতেই বেশি ব্যস্ত তিনি। গতকাল ছিল এ অভিনেতার কন্যা আনায়ার প্রথম...
বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে...
সৌদিতে ৩ বছর ৩ মাস জেলে বন্দি ছিলেন নজরুল। এই সময়ে এক জেল থেকে আরেক জেলে পাঠানো হয় তাকে। তার বাবা শুনেছেন জেল পরিবর্তনে সাজা লাঘব হয়। সে কারণে আশায় ছিলেন আবার জেল পরিবর্তনে তৃতীয় জেলে গেলে সজরুল...
নভেম্বরে চীনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন এপেক সম্মেলনের...
ছুটির দিনগুলোতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো মুখর হয়ে উঠলেও হোটেল-রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা। বান্দরবান ও কুয়াকাটার অসংখ্য হোটেল-মোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে টেক জায়ান্ট মেটা। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসার বাইরে নতুন আয়ের উৎস তৈরিতে একের পর এক এআই পণ্য ও সেবা চালু করছে...
ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের রান্না কেমন?
‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ ওয়েব সিরিজটি হলো এক নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প। পুরো সিরিজে বাংলাদেশের খুলনার কলাপোতা গ্রামের ইন্দুবালা ধীরে ধীরে কলকাতার ছেনু মিত্র লেনের ইন্দুবালা হয়ে ওঠেন। রন্ধনশিল্পী প্রৌঢ়া ইন্দুবালা নানা পদের রান্না করেন। আর সেই রান্নার পরতে পরতে জুড়ে থাকে তাঁর জীবনের নানা গল্প। সেই গল্পের ব্যঞ্জনায় রান্না ও সিরিজ দুই-ই হয়ে ওঠে অমৃত। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে দেবালয় ভট্টাচার্যের পরিচালনায় তৈরি ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’।
একই নামে কল্লোল লাহিড়ির উপন্যাসটি যেমন দুর্দান্ত, তেমনি পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যও দেখিয়েছেন দারুণ মুনশিয়ানা। পুরো সিরিজে ইন্দুবালার বর্তমানের সাথে অতীত স্মৃতি-বিস্মৃতি ও আবেগের মিশেল ছিল অপূর্ব। এই সিরিজটি দেখা শেষ হলেও, এর কোনো কোনো গান, গল্প, সংলাপ ও দৃশ্যকল্প ঘুরে বেড়াবে দর্শকদের মানসভুগোলে।
এই সিরিজের গল্প, চিত্রনাট্য আর সংলাপের প্রসঙ্গে আসা যাক। উপন্যাসকে সিনেম্যাটিক প্লটে রূপান্তর এমনিতেই কঠিন। তবে তা বেশ সহজভাবেই এসেছে ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে। ইন্দুবালার জীবনের তিন ভাগ - শৈশব, সংসার জীবন ও হোটেল প্রতিষ্ঠার গল্প এসেছে এই সিরিজে। সেখানে আছে দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, আছে কলকাতার সত্তর দশকের উত্তাল রাজনীতিও। ভাতের হোটেলের গল্পের আড়ালে এ যেন রিফিউজি ইন্দুর উপড়ানো শিকড়ের যন্ত্রণার গল্প, অস্তিত্ব সংকটের গল্প। এ যেন নিজের সাথে নিজেরই যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা। ইন্দুবালার এক সংলাপেই তা মূর্ত হয়ে ওঠে, “আমি যুদ্ধ বলতে বুঝি মানুষের সাথে স্মৃতির যুদ্ধ। শুধু বুঝি না এ লড়াই মনে রাখার, না ভুলে যাওয়ার।“
এই সিরিজের গল্পকে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা গানের। গীতিকার, সুরকার ও পরিচালকের অসাধারন মেলবন্ধন, আর সম্পাদনার টেবিলে তার যথাযথ প্রয়োগ সিনেমাটিক টাইম অ্যান্ড স্পেসের সুন্দর এক জগতে নিয়ে যায়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জসিমউদ্দীন অতীত ও স্মৃতির সাথে মিলে বর্তমানে একাকার হয়।
ওটিটি’র দুনিয়ায় অভিষেকেই নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলি। গ্ল্যামারাস এই নায়িকা অভিনয় করেছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা ইন্দুবালার চরিত্রে। ইন্দুবালার মধ্য বয়স ও প্রৌঢ়ত্বকে শুভশ্রী খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তলেছেন আঙ্গিক ও বাচিক অভিনয়ে। চরিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ছাপ স্পস্ট । অভিনয়ের গুণে ও সোমনাথ কুন্ডুর রূপসজ্জায় ৭৫ বছরের ইন্দুবালার বৃষ্টিতে ভেজার দৃশ্য দর্শকদের মনে থাকবে দীর্ঘদিন। অন্যদিকে লছমী পাহান চরিত্রে স্নেহা চ্যাটার্জি ছিলেন অনবদ্য। স্নেহার সাবলীল সহজাত অভিনয় ইন্দুবালার চরিত্রকে আরও পূর্ণ করে তোলে। মনের অজান্তে কখন যেন লছমী পাহান ও ইন্দুবালা মল্লিক একে-অপরের বোন হয়ে ওঠে! সে সম্পর্ক জীবন্ত থেকে যায় মৃত্যুর পরও।
এ ছাড়া সঞ্চারী হিসেবে অঙ্গনা রায়, মনিরুল চরিত্রে দেব দত্ত রাহা, রতনলাল মল্লিকের চরিত্রে প্রতীক দত্ত, ধনঞ্জয় হিসেবে দেবপ্রতীম দাশগুপ্ত ছিলেন যথার্থ। ইন্দুবালার পাশাপাশি লছমী, ধনা, মনিরুল দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে।
মন ছুঁয়ে যাওয়া সংগীতের পরিচালনায় ছিলেন অমিত চ্যাটার্জি। জাদুকরী সম্পাদনায় ছিলেন সংলাপ ভৌমিক। সিরিজটির সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। নির্মাণের প্রতিটা শাখায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইন্দুবালা ভাতের হোটেল এপার -ওপার বাংলার এক নিখুঁত নকশীকাঁথা যেন। যে নকশিকাঁথার গল্পে ইন্দুবালার ভাতের হোটেল থেকে কেউ না খেয়ে ফিরে যায় না। যে গল্পে ইন্দুবালা নিজের গ্রামে টুরিস্ট হয়ে ফিরে না গিয়ে, তার বদলে স্মৃতিকে আঁকড়ে নিজের মতো করে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে বেঁচে থাকে।
এই ওয়েব সিরিজটির মধ্য দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর কাছে সাহিত্যনির্ভর সিরিজ বা ফিল্মের প্রত্যাশা কিছুটা বেড়েই গেল। আট পর্বের ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে’কে গান, গল্প ও অভিনয়ে দর্শক মনে রাখবে দীর্ঘকাল।