উৎপাদন বন্ধ না করতে পারলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্লাস্টিকের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব হিমশিম খাবে। এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন নরওয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান বিথ টিভিনেরেইম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে প্রথম বৈশ্বিক চুক্তি বিষয়ে জাতিসংঘের একটি আলোচনার শেষ পর্যায় শুরুর আগে আজ রোববাব এ কথা বলেন অ্যান বিথ টিভিনেরেইম। তিনি বলেন, এই অবস্থার মুখোমুখি না হতে চাইলে এখনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোকে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে লাগাম টানতে হবে।
জাতিসংঘের আলোচনায় রুয়ান্ডা ও নরওয়েসহ প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা করতে চায় এমন ৬০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বিথ টিভিনেরেইম। তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে এমন একটি চুক্তির আশা করছেন, যেটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দূষণ রোধে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
তবে বিরোধী দেশগুলোর জন্য এমন একটি ‘পারফেক্ট ট্রিটি’ বা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন নরওয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান বিথ টিভিনেরেইম।
অ্যান বিথ টিভিনেরেইম এ সময় বলেন, ‘আমরা একটি নিখুঁত চুক্তি করতে যাচ্ছি না। কিন্তু আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমি মনে করি আমরা করতে পারব। আমি আশাবাদী হতে পছন্দ করি।’
নরওয়ের মন্ত্রী আরও বলেন, ‘উচ্চাভিলাষী জোটভুক্ত দেশগুলোর সাথে আমরা এই ইস্যু নিয়ে আলাপ করব। বিশ্বের এখন নিদারুণভাবে কিছু নেতৃত্বের প্রয়োজন। এবং ভালো সংবাদ পেতে চাই সবাই। কিন্তু এসব দেশ কোনো এক মোহে পড়ে রয়েছে।’
সম্প্রতি মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের নমুনা যেমন: জরায়ু, ধমনী, অণ্ডকোষ ও বীর্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা, যা প্লাস্টিকের ব্যাপ্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিই তুলে ধরে।
প্লাস্টিক সংকট মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে ১৭৫টি দেশ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষরের দুই বছর পার হলেও বিশ্বে এখনও ৭১২ বিলিয়ন ডলারের প্লাস্টিক শিল্প কমানোর যে অগ্রগতি, তা থমকে আছে।
বক্তব্য রাখার সময় বিথ টিভিনেরেইম প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্লাস্টিকের উৎপাদনও ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের ব্যবহার তিনগুণ হতে পারে। আর এর ব্যবহার সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।



