শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অনুভূত হয়েছে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এক ভূমিকম্প। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক সেন্টার থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে পার্শ্ববর্তী জেলা নরসিংদীর মাধবদী উপজেলা। এতে এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ১০ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক শ।
বাংলাদেশে বিগত তিন দশকের মধ্যে এটি-ই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। মাঝারি মাত্রার হলেও এমন কম্পন বড় মাত্রার বিস্ফোরণের সমতুল্য বলে জানা গেছে।
ঢাকার কাছাকাছি অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। কিন্তু রাজধানীর এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প এর আগে কখনও অনুভূত হয়নি। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ইতোপূর্বে ঢাকা বা তার আশেপাশের অঞ্চলে কবে কোন মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
বিভিন্ন সময় ঢাকায় অনুভূত ভূমিকম্পের বেশ কয়েকটির উৎসস্থল ছিল ঢাকার আশেপাশেই। এর মধ্যে সাম্প্রতিকতম ভূকম্পনটি অনুভূত হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা’র (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ৪ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার দোহারে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য জানিয়েছিল যে, ভূকম্পনটি সৃষ্টি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।
এর আগে ঢাকার কাছাকাছি নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অনেকগুলো ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১২-১৩ পর্যন্ত সময়ে।
ভূমিকম্প শনাক্তকারী সংস্থা আর্থকোয়েকট্র্যাক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৮ মার্চ দোহার থেকে ১৪ দশমিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তারও আগে ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূকম্পন হয়। তবে এগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা বড় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া ঢাকার কাছে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলেও বিগত ২০ বছরে একাধিক ছোট ছোট ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইলের ১২ কিলোমিটার পূর্বে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ২০০৮ সালে টাঙ্গাইলের কাছে নাগরপুরে এবং ২০১৯ সালে মির্জাপুরে ৪ মাত্রার নিচে ভূকম্পন অনুভূত হয়। বিগত ১৫ বছরে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অন্তত চারবার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অতীতে বড় আকারের কোনো ভূমিকম্প না হলেও ইতিহাসের পাতায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই ভূখণ্ডের। ১৮৯৭ সালের ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় অবিভক্ত বাংলার ১৫ শ’র বেশি মানুষ। ইতিহাসে এটি 'গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক' নামে পরিচিত। এর তিন দশক পর ১৯১৮ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে অনুভূত হয় ৭ দশমিক.৬ মাত্রার আরেকটি বড় ভূমিকম্প।


ভূমিকম্পে সারা দেশে নিহত বেড়ে ১০, আহত কয়েক শ
শক্তিশালী ভূমিকম্পে হঠাৎ কেঁপে উঠল ঢাকাসহ সারা দেশ
