বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতার বিচারে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে ২০২৫। দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেইঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, উষ্ণতার বিচারে শুধু ২০২৪ সালই থাকতে পারে এ বছরের ওপরে।
গত মাসে সিওপি৩০ জলবায়ু সম্মেলনের পর সিথ্রিএসের দেওয়া সর্বশেষ এই তথ্য জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে সামনে নিয়ে আসছে। কপ৩০-তে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের হার কমানোর ব্যাপারে অর্থবহ কোনো নতুন পদ্ধতির ব্যাপারে একমত হতে পারেনি দেশগুলো। এই প্রচেষ্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা, কিছু দেশের কার্বন নিঃসরণের প্রচেষ্টায় ঘাটতিসহ অনেক দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের ফলেই এই দশা হয়েছে।
একদিকে গ্রিনহাউজ গ্যাস কমানোর ক্ষেত্রে চেষ্টায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে এসেছে এই বছরেরও উষ্ণতম বছরগুলোর তালিকার ওপরের দিকে থাকার খবর। শুধু এতটুকুই নয়, এই বছরকে নিয়ে টানা তিন বছর বিশ্বের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা থাকছে শিল্পযুগের আগের (১৮৫০-১৯০০ সালের) গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। তিন বছরের চক্রের হিসেবে শিল্পযুগের আগের গড় তাপমাত্রার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো চক্রে দেখা গেল।
প্রসঙ্গত, ১৮৫০-এর আশপাশ থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড গড়ার বিশ্বস্ত পদ্ধতি চালু হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা তুলনার ক্ষেত্রে ১৮৫০-১৯০০ সালের ওই সময়টাকে ধরা হয় তুলনাযোগ্য আদর্শ সময়ের কাছাকাছি যুগ, অর্থাৎ বড় আকারে উষ্ণতার আগের সময়। ওই সময় থেকেই মানুষ শিল্পক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শুরু করে।
সিথ্রিএস-এর কর্মকর্তা সামান্থা বুর্গেস বলেছেন, ‘এই মাইলস্টোন অবাস্তব কোনো ব্যাপার নয়। এটা বোঝাচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন কী দ্রুতগতিতে হচ্ছে।’
এই বছরের পুরোটাজুড়েই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতার ছাপ দেখা গেছে। গত মাসে ফিলিপাইনে টাইফুন কালমায়েগিতে ২০০-রও বেশি মানুষ মারা গেছেন। স্পেন তিন দশকে সবচেয়ে ভয়ংকর দাবানল দেখেছে, বিজ্ঞানীরা যার নেপথ্যের কারণ হিসেবে আবহাওয়ার পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন।
এবারের আগে গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তাপমাত্রাই ছিল বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সাধারণ ট্রেন্ড অনুযায়ী এক বছর থেকে পরের বছরে তাপমাত্রায় ওঠানামা দেখা গেলেও বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বাড়তে থাকার একটা চিত্র তুলে ধরেছেন। ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন এই বছরের শুরুর দিকেই জানিয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে গত দশ বছরই হলো ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ দশ বছর। এর পেছনে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমনকেই মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।



