বনের প্রাণী রক্ষায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এর আওতায় রয়েছে প্রায় ১১শ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী।
আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে ১০০ প্রজাতির গাছকেও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার বার্তা যুক্ত করার তাগিদ গবেষকদের।
মানুষের পাশাপাশি এদেশের জলে-জঙ্গলে বাস করে প্রায় ১৬শ প্রজাতির বিচিত্র সব প্রাণী। তবে আবাস ও খাবারের তীব্র সংকটে তারা। রয়েছে পাচার, হত্যার ঝুঁকিও।
বন্যপ্রাণী রক্ষায় ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন হয়। তবে সেখানে মানুষের করা অপরাধের শাস্তি ছিল সামান্য। তাই সেই আইনে কিছু পরিবর্তন এনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকায় স্থান পেয়েছে ১৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭৪১ প্রজাতির পাখি, ১৬০ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬০ প্রজাতির উভচর।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘যেখানে আগে শুধু হাতি আর বাঘ মারলেই সেটা জামিন অযোগ্য ছিল, সেটাকে এখন প্রায় আড়াইশ প্রজাতির জন্য জামিন অযোগ্য করাটা; এটা একেবারেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’
উদ্ভিদ, পতঙ্গ, বন্য প্রাণী ও সাগরের জলজ প্রাণ মিলিয়ে পনেরশ প্রজাতি সুরক্ষার আওতায় এসেছে। গঠন হচ্ছে বন্যপ্রাণী উইং ও ট্রাস্ট ফান্ড নামে দুটি নতুন ইউনিট।
এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড, এটা আমাদের আইডিয়া অনুমোদন হয়েছে। এখন বিধিমালা করে টাকাটা আনতে হবে। আমি হয়তো বিধিমালা পর্যন্ত চূড়ান্ত করে দিয়ে যেতে পারব। টাকাটা যেন আসে; সরকার নিশ্চয়ই কমিটমেন্ট আছে বলেই এ কথা বলেছে। আশা করি আগামী সরকারও এই ধারাবাহিকতাটা রাখবে।’
তবে গবেষকরা বলছেন, বন্যপ্রাণী নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যবইয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত করা জরুরি।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন, ‘স্কুল–কলেজে বা মাদরাসায় ঢুকে সেখান থেকে এই জ্ঞানটা তার মগজে ঢুকিয়ে দিতে হবে। যেটাকে আমরা সোজা কথায় বলি মগজ ধোলাই। এটা সিলেবাসে নিয়ে আসতে হবেই। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ুক বা না পড়ুক– এই জ্ঞান অর্জন করার জন্য তাকে বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নাই।’
নতুন অধ্যাদেশে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিমান- স্থলবন্ধরের শুল্ক কর্মকর্তাদের যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।



