কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ খ্যাত আলোচিত ‘অ্যালবিনো’ জাতের মহিষটি। শেষ মুহূর্তে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহিষটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানায়। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জানা গেছে, ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মেহেদী হাসান ভূইয়ার কাছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ মহিষটিকে হস্তান্তর করে। অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি অত্যন্ত বিরল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মহিষটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। কোরবানির জন্য যিনি মহিষটি কিনেছিলেন, তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এটি হস্তান্তর নেওয়া হয়েছে। পরে মহিষটিকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানের চাচা শ্বশুর মো. তাইবুর রহমান বলেন, ‘আমরা মূলত ঈদুল আজহার কোরবানির জন্য মহিষটি কিনেছিলাম। তবে পরে জানতে পারি এটি অ্যালবিনো জাতের অত্যন্ত বিরল একটি মহিষ। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা মহিষটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এমন বিরল প্রাণী দেশের সম্পদ, তাই এটি সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দেখতে পারবে। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’
এদিকে গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মহিষটিকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় নেওয়ার বিষয়টি জানান মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা যুক্ত হয়েছে। বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির একটি মহিষ ইতোমধ্যে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য আনা হয়েছে।’
‘বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এমন গোলাপি বর্ণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এ ধরনের অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ফলে এটি শুধু একটি বিরল প্রাণীই নয়, বরং গবেষণা, সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’
‘প্রাণীটিকে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার জন্য ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহিষটির জন্য বড় শেড প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছি।’
‘আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অবগত করেছি। তিনি এ ধরনের বিরল প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
‘এছাড়া, মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানকে তার পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প গরুরও ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, বিরল এই অ্যালবিনো মহিষ শুধু দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই হবে না, ভবিষ্যৎ গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
পোস্টের শেষে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’



