দেশজুড়ে একদিকে হামের প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি। নানা উদ্যোগের পরও প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে হাজারেরও বেশি মানুষ। দিনে গড় মৃত্যু ৩ জনেরও বেশি মানুষের। এর মধ্যেই নতুন আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। ২ মাস ১০ দিনেই হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাম ও ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ দেখতে চান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ৬ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও জুলাই মাসে নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৯ হাজারের কিছু বেশি। আর আগস্টে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০০। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার।
বছরের প্রথম ৬ মাসে ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর কেবল জুলাই মাসে এই রোগে মৃত্যু হয় ৩৬ জনের। আগষ্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই প্রাণহানির সংখ্যা পুরো আগস্ট মাসের প্রায় সমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় সামনে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তাদের। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিচ্ছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির উপর।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, 'বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে মশা মারা হচ্ছে। কিন্তু সারা দেশে যুগপৎভাবে ২ থেকে ৩ দিনের একটি মশা মারার প্রোগ্রাম চালু করা দরকার। সেখানে মশার বাসস্থান, প্রজননস্থল, এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা- সবগুলোকে মারতে হবে, যেন সারা দেশে একত্রে এই অভিযানতা চলে।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'প্রতি গজে খন্দক, পানি জমে থাকে; যেই দেশে হাসপাতালের ভেতরে ডাব খেয়ে চারা দুটো ফেলে রাখে, পানি যে জমে থাকে; যেই দেশে ছাদের উপরে ম্যাজিস্ট্রেটকে উঠতে দেয় না; টবের মধ্যে পানি জমে থাকে, লার্ভা হয়- এই মশা আপনি কীভাবে আটকাবেন?'
এদিকে, গত প্রায় ৬ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ও আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েই চলেছে। নানা উদ্যোগের পরও প্রতিদিনই হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে। এসব নিয়ে হতাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।
হাম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, '৩০ কোটি মানুষের দেশ, মানে এমনভাবে বাচ্চাগুলোর পুষ্টির অভাব। নিউমোনিয়া হয়ে যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়।'
বৃহস্পতিবারও হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। আর নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯৪ জন।



