খাবার হজমের পর, সেই খাবারকে শরীরের কোষের জন্য প্রস্তুত করা, খাবারের বাড়তি অংশ শরীরের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য জমা রাখতে লিভারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই লিভারে চর্বি জমার ফলাফল নানা রকম হতে পারে। নন–অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে শুধু চর্বি জমতে দেখা যায়। নন–অ্যালকোহলিক স্ট্যায়াটোহেপাটাইটিসে (ন্যাশ) চর্বি জমার পাশাপাশি লিভারে প্রদাহ হয়। ফাইব্রাস টিস্যু তৈরি হয়ে যকৃতের কোষকলাগুলো শক্ত হয়ে যেতে থাকে। ফলে লিভারের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ন্যাশ রোগীর শেষ পর্যন্ত লিভার সিরোসিস হতে পারে। এমনকি ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
কী পরীক্ষা- নিরীক্ষা করতে হয়
ফ্যাটি লিভার ডায়াগনোসিসের জন্য আদর্শ পরীক্ষা হচ্ছে- লিভার বায়োপসি, যদিও বাস্তবে তা খুব কম করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করতে পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি, কিছু রক্ত পরীক্ষা (এসজিপিটি, এসজিওটি), লিভারের ফাইব্রোস্ক্যান ও ক্যাপ করানো যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের অন্য কারণগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার
শরীরে জমে থাকা মেদ ঝরিয়ে ফেলা, এই রোগ প্রতিকারের এখনো পর্যন্ত সর্বজনস্বীকৃত বিজ্ঞানসম্মত উপায়। বলা হয়ে থাকে যে, ফ্যাটি লিভার খুব বেশি অগ্রসর না হয়ে থাকলে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশ-১০ শতাংশ কমিয়ে ফেললে, এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে, অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে অনেক অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যা পরিণামে আরো ক্ষতি নিয়ে আসতে পারে। তাই সর্বোপরি নিয়ন্ত্রিত কর্মমুখর জীবনযাপন আর সুষম খাদ্যাভ্যাস এই দুইয়ের সমন্বয় যেমন প্রতিরোধ করতে পারে ফ্যাটি লিভার, তেমনি সহায়তা করতে পারে দীর্ঘমেয়াদি রোগমুক্তিতে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি তিনজনে একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। আরও চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, দেশে শহরের তুলনায় গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এবং পুরুষের তুলনায় নারীরা ফ্যাটি লিভারে বেশি আক্রান্ত। তাই বিষয়টি শঙ্কারও। এখনি যদি আমরা এই রোগ প্রতিরোধে সচেতন না হই, তাহলে দেশের জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
লেখক: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ


ফ্যাটি লিভার কী? যারা ঝুঁকিতে আছেন...
মা–বাবার কারণে সন্তানের যে রোগ হয়
কিডনিতে পাথর হলে যা করবেন
