আমাদের আশপাশে এমন অনেকেই আছেন, যাদের হাসার সময় গালে টোল পড়ে। ডিম্পল বা টোল পড়া একধরনের পেশিগত ত্রুটির ফল; তবে এটি মোটেও ক্ষতিকর কিছু নয়।
আসলে টোল পড়ার নেপথ্যে রয়েছে আমাদের মুখের জাইগোম্যাটিকাস মেজর নামের একটি পেশি। হাসির জন্যও এই পেশিটিই দায়ী। এর জন্যই আমরা কোনাকুনি বা বাঁকা করে হাসতে পারি।
এমনিতে পেশিটির কোনো ভাগ নেই। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে জন্মের সময় দুই খণ্ডে বিভক্ত হতে পারে। তখন এর নাম হয়ে যায় বাইফিড জাইগোম্যাটিকাস মেজর।
হাসার সময় এই বাইফিড পেশিটি মুখকে প্রসারিত করার সময় নিচের খণ্ডের সঙ্গে মুখের ত্বককেও নিয়ে যায়। ফলে সে স্থানে টান পড়ে ছোট গর্তের মতো সৃষ্টি হয়; এটিই আমাদের কাছে টোল পড়া নামে পরিচিত।
আমরা সাধারণত গালে টোল দেখেই অভ্যস্ত। এর বাইরেও শরীরের অন্যান্য অংশ, যেমন থুতনি, কোমর বা পিঠের পেছনের অংশে টোল পড়তে পারে। দ্য জার্নাল অফ ক্র্যানিওফেসিয়াল সার্জারির ২০১৯ সালে করা এক মেটা-বিশ্লেষণ অনুসারে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের গালে টোল পড়ে।
গালে টোল পড়ার পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যকেও দায়ী করা হয়। ইনোভেটিভ জার্নাল অব মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সের ২০১৫ সালের একটি রিভিউতে বলা হয়েছে, মা-বাবার মধ্যে যে কোনো একজনের টোল থাকলে তাদের সন্তানের টোল থাকার সম্ভাবনা প্রায় ২৫-৫০ শতাংশ। আর যদি দু’জনেরই টোল থাকে তাহলে সন্তানের টোল থাকার সম্ভাবনা ৫০-১০০ শতাংশ।
অবশ্য অনেকের ক্ষেত্রেই টোল পড়া স্থায়ী হয় না। তবে জন্মের সময় গালে টোল থাকলেও বড় হতে হতে অনেকেরই সেটি স্থায়ী হয় না। অন্যদিকে ছোটবেলায় না থাকলেও বড় হওয়ার পর কারও কারও হয়ে যেতে পারে।
মুখে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার কারণেও অনেক শিশুর ছোটবেলায় টোল পড়তে পারে। এটিও স্থায়ী হয় না। বয়সের সঙ্গে সেই চর্বি কেটে যায় এবং মুখের পেশি প্রসারিত হতে হতে একসময় টোল অদৃশ্য হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স



