কথায় আছে ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝা উচিত’ একটি প্রচলিত প্রবাদ। ৩২টি দাঁত আছে, একটা দাঁত চলে গেলে কী আর হবে এই ভাবনা থেকে অনেকে দাঁতের যত্নে অবহেলা করেন। কিন্তু এই একটা দাঁত কীভাবে সবগুলো দাঁত কে ক্ষতি করে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই দাঁতকে ভালো রাখতে প্রথমে জেনে নিব, দাঁতের যত্নে অবহেলা হলে কী কী সমস্যা হয়।
দাঁতের কিছু সাধারণ সমস্যা হলো: দাঁতের ক্ষয় (ক্যারিজ), মাড়ি রোগ, সংবেদনশীল দাঁত, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ, দাঁত ভাঙা বা ক্ষয়, এবং মাড়ির প্রদাহ। এছাড়া থাকতে পারে মুখের ক্যানসার, মুখের শুষ্কতা বা চোয়ালের সমস্যা।
১. দাঁত ক্ষয় (ক্যারিজ)
এটি দাঁতের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। দাঁতের এনামেল বা বাইরের স্তর এসিডের কারণে ক্ষয় হয়ে যায় এবং গর্ত তৈরি হয়। এর কারণে ব্যথা হতে পারে বা দাঁত সংবেদনশীল হতে পারে।
২. মাড়ি রোগ
এটি মাড়ির একটি সংক্রমণ, যা মাড়ি ফুলে যাওয়া, রক্তপাত, এবং দাঁত আলগা হয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
৩. সংবেদনশীল দাঁত
গরম বা ঠান্ডা খাবার খেলে দাঁতে শিরশিরানি বা ব্যথা অনুভব করা।
৪. নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ
একে হ্যালিটোসিস বলা হয়। এটি মাড়ির রোগ, মুখের ক্যানসার বা মুখের শুষ্কতাসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
৫. দাঁত ভাঙা বা ক্ষয়
আঘাত বা অন্য কোনো কারণে দাঁত ভেঙে যেতে পারে বা ক্ষয় হতে পারে।
৬. মুখের ক্যানসার
এটি একটি গুরুতর রোগ, যা মুখ এবং চোয়ালের টিস্যুগুলোতে প্রভাবিত করে।
৭. মুখ শুষ্কতা
পর্যাপ্ত লালা না থাকার কারণে মুখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
৮. মাড়ির প্রদাহ
মাড়ি লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, বা রক্ত পড়া মাড়ির প্রদাহের লক্ষণ।
৯. ব্রুকসিজম
এটি একটি অভ্যাস, যেখানে মানুষ ঘুমের মধ্যে বা সচেতনভাবে দাঁতে দাঁত ঘষে বা কামড়ায়।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
- ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করে নরম টুথব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।
- দাঁতের মাঝখানে পরিষ্কার করার জন্য দিনে একবার ফ্লস করুন।
- কুলকুচি করার জন্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।
- আপনার মুখের যত্নের রুটিনের অংশ হিসেবে আপনার জিহ্বা আলতো করে ব্রাশ করুন।
- চিনিযুক্ত এবং ঘন ঘন জলখাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।
- শুষ্ক মুখ এড়াতে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- চিনি-মুক্ত চুইংগাম লালা নিঃসরণকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করতে পারে।
- সকল প্রকার তামাক এড়িয়ে চলুন।
- দাঁতের সংবেদনশীলতার জন্যে সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি টুথপেস্ট বেছে নিন।
- অ্যাসিডিক খাবার এবং পানীয় সীমিত করুন।
- অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পর, জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- যদি দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস থাকে , তাহলে মুখে নাইট গার্ড পরার কথা বিবেচনা করতে হবে।
- প্রতি ছয় মাস অন্তর চেক-আপের জন্য নিয়মিত আপনার ডেন্টিস্টের কাছে যান।
দাঁতের সমস্যাগুলি, যতই গুরুতর হোক না কেন, প্রায়ই প্রতিরোধ করা যায় বা এমনকি সম্পূর্ণরূপে এড়ানো যায়, বিশেষ করে যদি কেউ তাদের মৌখিক স্বাস্থ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে। তাই যেমন সময়-সাপেক্ষ ব্যায়াম ব্যবস্থার মাধ্যমে আপনার শারীরিক স্বাস্থ্য এবং শরীরের যত্ন নেওয়া সম্ভব, ঠিক সেভাবে দাঁতের স্বাস্থ্য এবং মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি পরিচালনা করার জন্য সময় বের করা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার



