ভারতে ছাড়পত্র পেল ওজেম্পিক। ডেনমার্কের সংস্থা নোভো নরডিস্কের বহুল আলোচিত এই ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অরগানাইজেশন। সম্প্রতি ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ভারতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি কিংবা মেটফরমিন সহ্য না হলে একক চিকিৎসা হিসেবে ওজেম্পিক নিতে পারবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ওজেম্পিক আসলে সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশন, যা জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও কিডনির ঝুঁকি কমাতেও সক্ষম বলে ক্লিনিক্যাল গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে। ওষুধটি ইনজেক্টেবল সলিউশন আকারে পাওয়া যাবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি স্থূলতা কমানোর জন্য অনুমোদিত হয়নি। যদিও ওজন কমাতেও এটি কার্যকর বলে দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ডায়াবেটিস ভয়ঙ্কর হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১০.১ কোটি মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। পাশাপাশি ২৫ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। হৃদরোগ ইতিমধ্যেই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে ওজেম্পিক।
নোভো নরডিস্কের ভারতীয় শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিক্রান্ত শ্রোত্রিয়া জানিয়েছেন, ‘ওজেম্পিক টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি ওজন কমানো, হৃদরোগ ও কিডনির ঝুঁকি হ্রাসের মতো বাড়তি সুবিধাও রোগীদের দেবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে ওজেম্পিকের অনুমোদন রোগীদের জন্য আরও বিস্তৃত চিকিৎসার পথ খুলে দেবে। ভারতে অ্যান্টি-ওবেসিটি ওষুধের বাজার বর্তমানে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওজেম্পিক প্রথম ২০১৭ সালে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) দ্বারা অনুমোদিত হয়। এই ওষুধ সপ্তাহে একবার ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। চলতি বছরই ভারতের সংস্থাটি স্থূলতা কমানোর ওষুধ ওয়েগোভি বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। আগামী বছরের মার্চে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হতে চলেছে, যার ফলে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো জেনরিক সংস্করণ বাজারে আনতে পারবে। শ্রোত্রিয়া আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে ওষুধের দাম কমতে পারে।
ওজেম্পিককে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যা ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরে।



