টিকাদান কর্মসূচির পরও দেশে হামের বিস্তার থামছেই না। শিশুরাই নয়, আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও। প্রাদুর্ভাবের প্রায় চার মাসে হাম ও উপসর্গে মারা গেছে ৭ শতাধিক। রাজধানীতেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩২১ জনের।
সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা টিকার পাশাপাশি জোর দিচ্ছেন শিশুর পুষ্টিতে। পরামর্শ দেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে।
হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেছে। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃতের সংখ্যা ঢাকাতে, ৩২১ জন। আর রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন ৯০ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে, যারা আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের সমস্যা প্রকট হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছি না। হাসপাতালসহ যেগুলো জনসম্মুখের জায়গা; সেসব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় একজন থেকে আরেকজনের কাছে হাম ছড়াচ্ছে। যারা আগে থেকে রোগে ভুগছেন এবং যেসব শিশু অপুষ্ট তাদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। কোনো একক ব্যক্তির দ্বারা এই রোগ বা প্রকোপ কমানো কঠিন, সমন্বিত চেষ্টা করতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, মূলত অপুষ্টির কারণেই হাম আক্রান্ত অনেক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। হাম নির্মূলে টিকাদানের পাশাপাশি, শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেন তারা।
ডিএনসিসি হাসপাতালের চিকিৎসক রিফাত আল ইমন বলেন, শুধু টিকাদানে রোগ নির্মুল করা যাবে; বিষয়টা তা না। শিশুদের পুষ্টির বিষয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করা; হাম ছাড়াও অন্য রোগের ক্ষেত্রেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আগে থেকে যারা নানা রোগে আক্রান্ত, তাদের অবস্থা গুরুতর হচ্ছে বেশি।
সময়মতো টিকাদান, শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ তাদের।



