বর্ষা শেষ হওয়ার সাথেসাথেই সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। যশোর, গাজীপুর ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর সংক্রমণ চরম রূপ নিয়েছে। অনেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা ও মশারি সংকটের কারণে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন আক্রান্তরা।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেঙ্গু। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও তীব্র হচ্ছে মশাবাহিত এ রোগের সংক্রমণ। যশোরে এরই মধ্যে রোগীর সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে। সদর ও অভয়নগর উপজেলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। তবে মশা নিধনে নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
একই অবস্থা গাজীপুরে। ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে কাশিমপুর, টঙ্গী, জয়দেবপুর ও কোনটাখালি। সম্প্রতি শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও মেঝেতে থাকছেন রোগীরা।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ডেঙ্গু রোগী অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে কিছুটা শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আমরা রোগীদের সর্বাত্মক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
চাঁদপুরে সরকারি হিসাবেই চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে তিনগুণ। বাস্তবে তা আরও কয়েকগুণ বেশি বলে শঙ্কা চিকিৎসকদের। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে অর্ধশতাধিক নতুন রোগী।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দিন বলেন, ‘চাঁদপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। আমরা জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছি।’
মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান না চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে শঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।



