রোমাঞ্চকর বইয়ের পাতায় কখনো চোখ বুলানো হয়নি তাঁর। রহস্য রোমাঞ্চের ‘মাসুদ রানা’ কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা’—এর কোনোটিই কখনো ছুঁয়ে দেখেননি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। অথচ আজ তিনি নিজেই এক জীবন্ত রোমাঞ্চের নাম। পেশায় একজন কেমিস্ট হলেও নেশায় তিনি এখন উত্তাল সমুদ্র আর দীর্ঘ পথের ম্যারাথন জয়ী এক অদম্য তরুণ।
গতকাল শনিবার ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সাঁতার কেটে সফলভাবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন বগুড়ার এই তরুণ। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিনে গিয়ে যখন তার সাঁতার শেষ হয়, তখন তার নামের পাশে যুক্ত হয় এক নতুন ইতিহাস। ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের ১৯তম আয়োজনে জাহিদের সঙ্গে আরও ৩৪ জন এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। ছিলেন দুইজন নারীও।
সাঁতার শেষে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জাহিদ বলেন, ‘বাংলা চ্যানেল সাঁতার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। এটি কেবল শারীরিক সক্ষমতা নয়, বরং মানসিক শক্তির পরীক্ষা। আর এই মানসিক শক্তিই মানুষের জীবনের যেকোনো অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে।’
জাহিদের এই দীর্ঘ পথচলার শুরুটা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত ও অপরিকল্পিত। প্রায় ছয়-সাত বছর আগে কেবল সুস্থ থাকার তাগিদ থেকে ব্যায়াম, দৌড় ও সাঁতার শুরু করেন তিনি। জাহিদ জানান, তার বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার সেই অসুস্থতা জাহিদকে সচেতন করে তোলে। তিনি চাননি শেষ বয়সে অসুস্থ হয়ে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় দৌড় আর সাঁতার।
অদম্য এই তরুণের অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। বাংলা চ্যানেল জয়ের আগে তিনি কাপ্তাই লেকের শুভলং চ্যানেলে ১৪ কিলোমিটার, কুতুবদিয়া চ্যানেলে ৭ কিলোমিটার এবং পদ্মা নদীতে ৭ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। শুধু জলেই নয়, স্থলেও তার পায়ের ছাপ সুস্পষ্ট। ১০০ কিলোমিটার আলট্রা রান, চারটি ফুল ম্যারাথন, ৩০টির বেশি হাফ ম্যারাথন এবং ৫০টিরও বেশি সাধারণ ম্যারাথনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
তবে জাহিদের এই অসাধ্য সাধনের পেছনে কোনো পেশাদার লক্ষ্য নেই। তিনি চান তাঁর এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হোক। একই সঙ্গে নদী, সমুদ্র ও প্রকৃতি রক্ষায় যেন মানুষ এগিয়ে আসে, সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহিদ জানান, তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হলো বিশ্বখ্যাত ‘আয়রনম্যান’ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া। বর্তমানে সেই লক্ষ্য পূরণে সাঁতার, দৌড় ও সাইক্লিংয়ের সমন্বয়ে কঠিন প্রস্তুতি নিচ্ছেন পেশায় কেমিস্ট এই তরুণ।



