ব্যস্ত জীবনে গাড়ি বা বাইক আমাদের অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। অফিস, স্কুল, বাজার বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সবকিছুই বাড়ি বা বাইকে ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে তেলের সংকট আমাদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মানলেই তেল খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নিই কীভাবে সহজে তেলের ব্যবহার বাঁচানো যায়।
নিয়মিত সার্ভিস করুন
যদি আপনার গাড়ি বা বাইক নিয়মিত সার্ভিস করা না হয়। তাহলে ইঞ্জিন ঠিকমতো কাজ করবে না। ফলে বেড়ে যায় তেল খরচ। প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট কিলোমিটার পর গাড়ি বা বাইক সার্ভিস করাতে হবে। বিশেষ করে ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ, এয়ার ফিল্টার সব ঠিক থাকলে ইঞ্জিন ভালোভাবে কাজ করে। আর তেলের ব্যবহার কম হয়।
ধীরে চালান
হঠাৎ ব্রেক বা দ্রুত এক্সিলারেট করলে তেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। বিশেষ করে শহরে যাত্রা করলে বারবার স্টপ-অ্যান্ড-গো করার কারণে ইঞ্জিনের তেল বেশি খরচ হয়। ধীরে এবং মসৃণভাবে গাড়ি বা বাইক চালানো তেল বাঁচায়। এছাড়া দ্রুত চালালে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। যা ভবিষ্যতে বড় খরচের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টায়ারের চাপ ঠিক রাখুন
টায়ারের চাপ কম বা বেশি থাকলেও তেলের খরচ বাড়ে। কম চাপের টায়ার বেশি ঘষে, আর বেশি চাপের টায়ার ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি দিতে হয়। তাই প্রতি দুই-তিন সপ্তাহ অন্তর টায়ারের চাপ পরীক্ষা করুন। ম্যানুফ্যাকচারারের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিক করুন। ঠিকমতো ফুলে থাকা টায়ার গাড়ি বা বাইককে সহজে চলতে সাহায্য করে। সেই সাথে তেলের ব্যবহার কমায়।

অপ্রয়োজনীয় ভার কমান
গাড়ি বা বাইকে অতিরিক্ত ভার থাকলে ইঞ্জিন বেশি শক্তি খরচ করে। কিছু সময় আমরা গাড়িতে বা বাইকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখি। যেমন ব্যাগ, পুরনো জিনিস বা অতিরিক্ত জিনিসপত্র। এগুলো কমিয়ে দিলে ইঞ্জিন সহজে চলতে পারে এবং তেল কম খরচ হয়। হালকা গাড়ি বা বাইক চালানো সবসময় তেলের জন্য ভালো।
শীতকালে ধীরে চালু করুন
শীতকালে ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকে। অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়া করে সরাসরি হাই স্পিডে গাড়ি চালাই। এতে ইঞ্জিন বেশি তেল খরচ করে এবং ক্ষতি হতে পারে। তাই শীতকালে প্রথমে কয়েক মিনিট ধীরে চালিয়ে ইঞ্জিনকে গরম করুন। এরপর ধীরে ধীরে স্পিড বাড়ানো উচিত।
গিয়ার ঠিকভাবে ব্যবহার করুন
ম্যানুয়াল গাড়ি বা বাইকে গিয়ার ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম বা বেশি গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিন বেশি শক্তি খরচ করে। সঠিক গিয়ার ব্যবহার করলে তেলের ব্যবহার কমে এবং গাড়ি বা বাইক মসৃণভাবে চলে।
দীর্ঘ সময় আইডলিং এড়িয়ে চলুন
যখন গাড়ি বা বাইক স্টপ অবস্থায় থাকে এবং খালি ইঞ্জিন চালু থাকে, তখন তেল নষ্ট হয়। বিশেষ করে ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। কিছু গাড়ি বা বাইকে স্টার্ট-স্টপ সিস্টেম থাকলে তেল আরও বাঁচে।
ভালো মানের তেল ব্যবহার করুন
সস্তা বা নিম্নমানের তেল ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর। ভালো মানের তেল ব্যবহার করলে ইঞ্জিন ভালোভাবে কাজ করে এবং তেলের ব্যবহার কম হয়। তেল ভালো হলে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম হয়।
ছোট ও সরাসরি রুট বেছে নিন
যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও কম ট্রাফিকের রুট বেছে নিন। ট্রাফিক জ্যামের রাস্তা এড়িয়ে চললে তেল বাঁচে। বারবার ঘুরে ফিরলে তেল বেশি খরচ হয়। আধুনিক ন্যাভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে কম সময়ে পৌঁছানোর রুট নির্বাচন করা যায়।
নিজের চালানোর অভ্যাস বদলান
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার চালানোর অভ্যাস। হঠাৎ ব্রেক না দেওয়া, ধীরে মসৃণ চালানো, গিয়ার ঠিকভাবে ব্যবহার করা, এবং রুট পরিকল্পনা করা। এগুলো মিলিয়ে তেল অনেকটা বাঁচায়। দ্রুতগতির চালালে শুধু তেলের খরচ বাড়ায় না, ইঞ্জিনের ক্ষতিও বাড়ায়। তাই নিজের অভ্যাস বদলানো অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত অয়েল বা অ্যাড-অন এড়িয়ে চলুন
গাড়িতে অনেক সময় আমরা অপ্রয়োজনীয় অ্যাড-অন বা অতিরিক্ত অয়েল ব্যবহার করি। যা তেলের খরচ বাড়িয়ে দেয়। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অয়েল ব্যবহার করুন।
গাড়ি বা বাইক শিখনেও মনোযোগ দিন
আপনি যদি গাড়ি বা বাইক চালানোর দক্ষতা বাড়ান, তাহলে তেলের ব্যবহার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হবে। দূরত্ব মাপা, ব্রেকিং এবং এক্সিলারেশন কৌশল ঠিক রাখলে তেল বাঁচে।
খোলা জায়গায় পার্ক করুন
যদি সম্ভব হয়, গাড়ি বা বাইককে ছায়ায় বা শীতল জায়গায় রাখুন। ইঞ্জিন ঠান্ডা বা বেশি গরম থাকলে তেল খরচ বেশি হয়।
ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহার করুন
যদি গাড়িতে ক্রুজ কন্ট্রোল থাকে, হাইওয়ে বা দীর্ঘ রোডে সেট ব্যবহার করুন। এটি স্পিড স্থির রাখে এবং তেল খরচ কমায়।
ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো মিলিয়ে মাসে তেলের খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব। নিয়মিত সার্ভিস, টায়ারের চাপ ঠিক রাখা, ধীরে চালানো, অপ্রয়োজনীয় ভার কমানো। এগুলো নিয়মিত মানলে তেল খরচ কমে। শুধু অর্থই নয়, ইঞ্জিনও দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।



