প্রসাধনীর বাজারে একসময় কোরিয়ান বা ‘কে-বিউটি’র দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে জাপানি বা ‘জে-বিউটি’র। নাটক, সিনেমা আর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে তরুণদের মধ্যে জাপানি ত্বকচর্চা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছ, উজ্জ্বল অথচ স্বাভাবিক ত্বক, এই হলো জাপানি সৌন্দর্যের মূল বৈশিষ্ট্য। প্রশ্ন হলো, জাপানিরা ত্বকে কী ব্যবহার করেন? তাদের প্রসাধনী কি পুরোপুরি রাসায়নিকমুক্ত?
জাপানি রূপচর্চার মূল বিষয় হলো সরলতা এবং কোমল যত্ন। ভারী মেকআপ নয়, বরং ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য। সে জন্য তারা প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর বেশি ভরসা করেন।
কনজ্যাক, প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট
ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে আমরা অনেক সময় দানাদার স্ক্রাব ব্যবহার করি। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। জাপানে এর বদলে ব্যবহার করা হয় কনজ্যাক স্পঞ্জ। এটি একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ থেকে তৈরি নরম স্পঞ্জের মতো উপাদান। ভিজিয়ে নিয়ে হালকা হাতে মুখে ঘষলেই ত্বকের ওপর জমে থাকা ময়লা ও মৃতকোষ পরিষ্কার হয়। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও নষ্ট হয় না।
মাচা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
মাচা এক ধরনের সবুজ চা, যা পানীয় হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে জাপানে এটি ত্বকচর্চাতেও ব্যবহৃত হয়। মাচায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা দূষণ ও রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বকের প্রদাহ কমাতেও সহায়ক এই উপাদান। ফেসমাস্ক বা স্কিনকেয়ার পণ্যে মাচা ব্যবহারের চল রয়েছে।
ক্যামেলিয়া অয়েল, হালকা অথচ কার্যকর
তেল মানেই অনেকের ভয়, ব্রণ হবে কি না সেই চিন্তা। কিন্তু জাপানে ক্যামেলিয়া অয়েল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। জ্যাপোনিকা ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি এই তেলে রয়েছে ওলেইক অ্যাসিড (ওমেগা-৯), লিনোলেইক অ্যাসিড ও স্কোয়ালেন। এটি ত্বকের পোরস বন্ধ করে না, বরং ত্বক নরম রাখে এবং কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে ত্বক থাকে মসৃণ ও উজ্জ্বল।
ইয়ুজু, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল
ইয়ুজু এক ধরনের সাইট্রাস ফল, দেখতে কিছুটা কমলালেবুর মতো। এতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। ত্বকের দাগ-ছোপ হালকা করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং পিএইচের ভারসাম্য রক্ষায় ইয়ুজু কার্যকর। অনেক জাপানি স্কিনকেয়ার পণ্যে এই ফলের নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
সাকুরা, তারুণ্য ধরে রাখার উপাদান
চেরি ব্লসম বা সাকুরা জাপানের সাংস্কৃতিক প্রতীক। ত্বকচর্চাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। সাকুরায় থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভোনল ত্বকের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হওয়ায় ত্বক টানটান ও সতেজ দেখায়।
সব মিলিয়ে জাপানি রূপচর্চায় জোর দেওয়া হয় কোমল পরিচর্যা, প্রাকৃতিক উপাদান এবং নিয়মিত যত্নের ওপর। ভারী প্রসাধনের বদলে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর ও সুষম ত্বকই তাদের সৌন্দর্যের আসল রহস্য।



