অনেকের বাড়িতে এখনও শাল, সেগুন বা মেহগনি কাঠের তৈরি বনেদি নকশার খাট, আলমারি এবং ড্রেসিং টেবিল দেখা যায়। পুরনো দিনের এসব কাঠের আসবাবের আভিজাত্যই আলাদা। এসব আসবাব যেমন বাড়ির বাসিন্দাদের রুচির পরিচয় দেয়, তেমনি সেগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি।
শখের কাঠের আসবাবের দফারফা করতে সক্ষম ঘুণপোকা। এক বিশেষ ধরনের কাঠপোকা কাঠের গায়ে ডিম পাড়ে। সেখান থেকেই কাঠের ভিতরে লার্ভা বড় হতে থাকে। আস্তে আস্তে আসবাবের ভিতরে পোকার ঘাঁটি তৈরি হয়। ফলে ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে আসবাব।
কী করে মুক্তি পাবেন এই সমস্যার হাত থেকে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সমাধানের কিছু উপায়।
- ঘুণপোকা ভেজা, স্যাঁতসেঁতে জায়গাতে ডিম পাড়ে। কাঠের আসবাব সব সময় শুকনা রাখতে হবে। শীতের দিনে জানালা, দরজা খুলে দেবেন যেন পর্যাপ্ত রোদ আসে। আসবাবে পানি পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলবেন। তাছাড়া কখনও ভেজা কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব পরিষ্কার করবেন না।
- কাঠের গায়ে কোনও ছিদ্র বা ফাটল থাকলে, ঘুণপোকা সেখানে ডিম পাড়ে। ছিদ্র হলে সেখানে মোম বা গালা জাতীয় কিছু দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করুন। আসবাব কেনার আগে সব সময় দেখে নিবেন তার গায়ে এ রকম ছিদ্র বা ফাটল কি না।

- আসবাবে ঘুণপোকা, ছারপোকার উপদ্রব হয়ে গেলে নিমের তেল ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন বাড়ির মেঝে, কাঠের আসবাবে নিম তেল স্প্রে করতে পারেন।
- ঘুণপোকা ধরেছে মানেই আসবাবটি বাতিল করে দিতে হবে তা নয়। ঘুণ অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেলে কারিগর ডেকে ঘুণ ধরা অংশটি ফেলে দিয়ে মেরামত করতে হতে পারে। এতে আসবাবের বাকি অংশ বাঁচবে।
- রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করলেও অনেক সময় ঘুণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাজার থেকে বোরন পাউডার কিনে এনে আসবাবে স্প্রে করতে পারেন। নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়েও আসবাবের পোকায় খাওয়া জায়গায় প্রলেপ দিতে পারেন।


কাঠের আসবাব ভালো রাখতে কী করবেন? জেনে নিন
সোফা কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন 
