বিমানে বসে যাত্রীদের চাওয়া থাকে বেশি জায়গা আর একটু আরাম। সেই চাওয়াকে পুরণ করতে আবারও আলোচনায় এসেছে দুই স্তরের আসনের ধারণা। নতুন রূপে এই নকশা নিয়ে হাজির হয়েছেন ডিজাইনার আলেহান্দ্রো নুনিয়েজ ভিসেন্তে। তিনি এই নকশাকে বলছেন তার ‘চূড়ান্ত সংস্করণ’। তবে বাস্তবে বিষয়টি এখনো অনেকটাই পরীক্ষার পর্যায়ে।
এই ধারণার শুরু ২০২০ সালে। তখন নুনিয়েজ ভিসেন্তে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কম জায়গার বিমানের আসনে দীর্ঘ ভ্রমণের কষ্ট থেকেই তিনি ভাবেন, কেন না আসনকে দুই স্তরে ভাগ করা যায়?
সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘চেজ লংগ’ নামের এই ডিজাইন। পরে ২০২২ সালে এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ দেখানো হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা, সমালোচনা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া।
নতুন এই ধারণায় বলা হচ্ছে, বিমানের ভেতরের আসন থাকবে দুই স্তরে। একটি ওপরের দিকে, আরেকটি নিচে। নিচের অংশে যাত্রীদের পা ছড়িয়ে বসার মতো কিছুটা বাড়তি জায়গা থাকবে। লক্ষ্য হলো দীর্ঘ ভ্রমণে আরাম বাড়ানো। বেশি যাত্রী বহনে খরচও অনেকটা কমে আসবে।
তবে শুরু থেকেই এই ডিজাইন নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। কেউ বলেছেন, এতে জায়গা আরও কমে যেতে পারে। কেউ আবার বলেছেন, নিচের অংশে বসলে অস্বস্তি বা বদ্ধ জায়গার অনুভূতি হতে পারে।
এই সমালোচনা মাথায় রেখে নতুন সংস্করণে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন নিচের অংশে আগের তুলনায় বেশি জায়গা রাখা হয়েছে। উপরের আসনের পেছনে একটি আলাদা প্যানেল যোগ করা হয়েছে। যাতে যাত্রীদের ব্যক্তিগত জায়গা কিছুটা বাড়ে।
ডিজাইনারের দাবি, আগের চেয়ে এখন নকশাটি অনেক বেশি খোলামেলা এবং ব্যবহারবান্ধব।
নতুন ডিজাইনে আরও একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য আলাদা সুবিধার কথা ভাবা হয়েছে। শারীরিকভাবে চলাচলে সীমাবদ্ধ যাত্রীরাও যাতে সহজে ব্যবহার করতে পারেন, সে দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
ডিজাইনারের সহকর্মী ক্লারা সার্ভিস সোটো বলেন, তারা চান এই নকশায় সব ধরনের যাত্রীই সুবিধা পান।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণার লক্ষ্যও কিছুটা বদলেছে। শুরুতে এটি ছিল সাধারণ অর্থনৈতিক শ্রেণির যাত্রীদের জন্য কম খরচে বেশি আরাম দেওয়ার ভাবনা। কিন্তু এখন এটি ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণির দিকে যাচ্ছে।
ডিজাইনার জানিয়েছেন, বিমান সংস্থাগুলোর বাস্তব চাহিদার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। সাধারণত নতুন আসনের মতো পরিবর্তন আগে প্রিমিয়াম কেবিনেই আনা হয়।
তবে বাস্তবতা হলো, এই আসন এখনো কোনো বিমানে ব্যবহার শুরু হয়নি। বিমান সংস্থার অনুমোদন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় খরচ। সব মিলিয়ে এটি বাস্তবে আসতে এখনো সময় লাগবে।
তবুও ইউরোপের একটি বড় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ডিজাইনার বলছেন, তার লক্ষ্য একটাই, বিমান ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করা। তবে তিনি এটাও মানছেন যে, বাস্তবে এটি কবে চালু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, এই দুই স্তরের আসন এখনো আকাশে না উঠলেও। আকাশ ভ্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।



