স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশ। আজ ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। ইপিআরের ওয়্যারলেসসহ নানা মাধ্যমে তা প্রচার হয় দেশে-বিদেশে। মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বিশ্বের রোল মডেল।
সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। তবে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে পাকিস্তানিরা। ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইট নামে বর্বরতম গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা।
ক্র্যাকডাউনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পাক হানাদার বাহিনী। এর আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা রেকর্ড করে নানা জায়গায় পৌঁছে দেন শেখ মুজিব। ইপিআরের ট্রান্সমিটারে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে।
এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘খুলনার গণহত্যা জাদুঘরে শিলং থেকে করা আমাদের একটা টেলিগ্রাফ আছে, যেখানে উল্লেখ আছে শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যদি ঘোষণা না দিতেন তবে সেই টেলিগ্রাফটা কোথা থেকে এল! এ ছাড়া ২৭ তারিখের যে পত্রিকা সংগৃহীত রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।’
এর আগে তুমুল অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। তখন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা। কারণ ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হত না।
হানাদার বাহিনীর ছোবল থেকে দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে লড়াই করে বীর বাঙালি। স্বাধীনতার মন্ত্রে প্রতিরোধে গর্জে ওঠে মুক্তিযোদ্ধারা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে পরাজিত হয় লুটেরা জান্তা বাহিনী। অর্জন হয় স্বাধীনতা।



