মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাঙালির আবেগের শেষ নেই। নানা সৃজনশীল মাধ্যমে বহুবার প্রকাশ পেয়েছে সেই আবেগ। এবার স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে ১০০ ফুট পটচিত্র আঁকলেন নড়াইলের নিখিল চন্দ্র দাস। যেখানে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে শুরু করে হানাদারদের নির্যাতনের কাহিনী। স্বাধীনতা দিবসে নড়াইল শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তাঁর পটচিত্র প্রদর্শনী হয়।
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণ, ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নামের ভয়াবহ বর্বরতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সব নৃশংস ঘটনাই পটে আঁকা। ৯ মাসের দীর্ঘ ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে ১০০ ফুটের পটে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র এঁকেছেন নড়াইল সদরের আলাদাতপুর এলাকার পটুয়া নিখিল চন্দ্র দাস। এ্যাকরেলিক ও অক্সাইডের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এই চিত্রকর্ম।
পটুয়া নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি একাত্তর সালের পরপর এই মুক্তিযুদ্ধের পটটা আমি দেখেছি। এটা দেখার পরে আমি কিন্তু, হয়ত কথাটা কেমন হয়, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি ভেবেই চলি যে এই মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো আমি কিভাবে আঁকব। আমার কিন্তু শুধু পট না, এর সঙ্গে কিন্তু গানও আছে।’
প্রতিটি পটের সাথে ছন্দে ছন্দে, গীতি কবিতায় ইতিহাসের নির্মমতার বর্ণনা করেন গায়েন দল। একাত্তরের ভয়াল দিনলিপি আগে কেউ এভাবে লিপিবদ্ধ করেনি।
এ এম সুলাতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনাদি কুমার বৈরাগী বলেন, ‘নিখিল চন্দ্র বিশ্বাসই আমরা প্রথম দেখতে পাই যে পট চিত্রের মাধ্যমে গানও গায়। এটা গ্রামে বিভিন্ন জায়গায়, সাধারণের সুবিধার্থে সে এই কার্যক্রমটা চালিয়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, এই লোকজ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না বাংলার শক্তিশালী এই মাধ্যম সম্পর্কে। সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে হারিয়ে যাবে পটচর্চা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের যে নতুন প্রজন্ম তারা কিন্তু এটা থেকে দুরে আছে। এই দিবসগুলোই পারে আমাদেরকে এই পটচিত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে। এখন এটা প্রায় বিলুপ্তির পথে।’
পটুয়া নিখিল নিজের বাসায় গড়ে তুলেছেন অনন্য সংগ্রহশালা। মুক্তিযুদ্ধ ও গ্রামীণ ঐতিহ্য নিয়ে আরও বড় কাজ করার চিন্তা করছেন এই পটুয়া।
আরও পড়ুন:



