আজ ভয়াল ২৫ মার্চের কালরাত্রি। একাত্তরের এ রাতে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি হানাদাররা। যা চলে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত। ইতিহাস গবেষকেরা মনে করেন, গণহত্যার দায় যতোটা পাকিস্তানের ঠিক ততটাই আমেরিকা ও চীনের। কেননা, পাকিস্তানি বাহিনীকে অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে ও গণহত্যা আড়ালের চেষ্টা করেছে শক্তিধর এ দুই দেশ।
একাত্তরের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নাটক সাজান ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেয় পাকিস্তান বাহিনী। ২৫ মার্চ রাতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। প্রশ্ন থেকে যায়, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে টানা নয় মাস কীভাবে গণহত্যা চালালো পাকিস্তান? ইতিহাস গবেষকেরা বলছেন, এটা সম্ভব হয়েছে পরাশক্তি আমেরিকা ও চীন পাকিস্তানকে সহায়তা করায়।
এ বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমর্থনটা তখন পাকিস্তানের পক্ষে বেশি ছিল। সে জন্য এই সমস্ত দেশগুলো সরাসরি গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে মদদ দিয়েছে বা বিরোধিতা করেনি। আমেরিকা তো পাকিস্তানকে অস্ত্রই দিয়েছে। চীনের অস্ত্র দিয়েই তারা (পাকিস্তানি সেনারা) যুদ্ধটা করেছে।’
এ নিয়ে গণহত্যা জাদুঘর ট্রাস্টি সম্পাদক চৌধুরী শহীদ কাদের বলেন, ‘পাকিস্তানিদের যে গণহত্যা সেটার কোনো সংবাদ, কোনো ছবি সেসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোর কারণে ছাপাতে পারেনি। একাত্তরে এইখানে (বাংলাদেশে) কি হচ্ছে, পুরো বিশ্ব সে সময় অন্ধকারে ছিল। আর এই অন্ধকারের রাখার দায় পাকিস্তানসহ তার এই সহযোগীদের।’
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের অনুকূলে আনতে উদ্যোগ নেন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে ভারত, ডিসেম্বরে আসে বিজয়। কিন্ত এ সময় পরাশক্তির সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানিরা যে হত্যাযজ্ঞ চালায় তার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এড়াতে পারে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘একাত্তরের গণহত্যার দায় অবশ্যই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে আমেরিকা ও চীনকে নিতে হবে। এবং সেটা গণহত্যার যখন বিচার হবে বিষয়গুলো তখন নিশ্চয়ই আলোচিত হবে।’
ভিডিও দেখুন:চৌধুরী শহীদ কাদের বলেন, ‘শত শত অস্ত্রের জাহাজ আমেরিকা, চীন থেকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কাছে এসেছে। তাদের যেখানে লোকাল কোলাবর ছিল তাদের হাতে এসেছিল এইসব অস্ত্র।’
গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তানি জান্তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর উপর জোর দেন তারা। এতে কোনো দেশ নাখোশ হলেও এ বিচার জরুরি বলে মত বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:



