সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করে।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন বেনজীর। তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে।
গত বছরের মে মাসে দৈনিক কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদের কথা তুলে ধরা হয়। এতে দাবি করা হয় বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, পাঁচ তারকা হোটেলের শেয়ার, গাজীপুর, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে।
এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরের বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুদকের কাছে আবেদন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। এর পরপরই বেনজীর আহমেদের বিপুল অবৈধ সম্পত্তির অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী সালা উদ্দিন রিগ্যান।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে আলাদা ৪ মামলা করে দুদক।
মামলায় বলা হয়, বেনজীর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেন।
বেনজীর–জীশান দম্পতির বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজ মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনে দুদক।
অভিযোগ ওঠার পর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।



