ঢাকা কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে আগামীকাল সারাদেশের সরকারি কলেজে কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার দাবিতে সোমবার শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণেই শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা গবেষকরা।
রাজধানীর সাতটি কলেজকে বিলুপ্ত করে সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই এর পক্ষে–বিপক্ষে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক বহাল রাখা এবং কলেজের স্বকীয়তা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। আরেক অংশ সাত কলেজের প্রজ্ঞাপন তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি দেয়।
এ সময় ঢাকা কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রজ্ঞাপনের দাবি তোলা শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীরা কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
পরবর্তীতে ঢাকা কলেজে অন্যান্য কলেজের শিক্ষকরা এসে সমাবেশ করেন।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘মঙ্গলবার সব সরকারি কলেজ ও অন্যান্য অফিসে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এদিকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
৭ কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশকে ‘গোঁজামিল’ বলছেন শিক্ষা গবেষকরা। তারা বলছেন, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘এটা আসলে যারা করেন, আমার ধারণা তারা নিজেরাও পরিষ্কার না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তা–চেতনার সঙ্গে আসলে এই জিনিসগুলো যায় না। সকাল থেকে এইচএসসি আর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়— এটা আসলে যায় না। ওভারঅল আমি বলব যে লেজে গোবরে একটা অবস্থা।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণেই শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।


শিক্ষা ভবনের সামনে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান
