ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওএইচসিএইচআরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল পাঠিয়েছে। ওই নোটে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, ওএইচসিএইচআর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রই তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণয়কে অবহিত করা হবে। বাংলাদেশ সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে ওসমান হাদি মারা যান।



