ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রঙের আঁচড়ে সাজানো হচ্ছে বেদি। এ কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন চারুকলার চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রমজান উপলক্ষে রাত ৩টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শহীদ মিনারের ঘোষণা মঞ্চ।
একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের দিন। বছরের এই একটি দিন ঘিরে অন্যরকম আবেগে মোড়া থাকে পুরো দেশ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দু—কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখন ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে বেদি। নতুন রঙে সাজানো হয়েছে স্তম্ভগুলো। রং-তুলির আঁচড়ে আঁকা হচ্ছে আল্পনা। যেন একুশের প্রথম প্রহরে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কোনো ঘাটতি না থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘শহীদ মিনারের পাদদেশে যে আল্পনাগুলো আজ করা হচ্ছে, আগামীকাল আবার রাস্তায় কাজ করা হবে। বিভিন্ন মনীষীর বাণীগুলো দেওয়ালে প্রতিস্থাপন করা হবে। আশা করি, সব কাজ সুন্দরভাবেই হবে।’
প্রতিবছরের মতো রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শ্রদ্ধা নিবেদন। এরপর সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করবেন। তাই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে কোনো জাতীয় অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অংশগ্রহণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাঁদের অভিনন্দন জানানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য যা যা করা দরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাই করছে। আমাদের তরফেও প্রস্তুতি আগের বছরের চেয়ে ভালো। অত্যন্ত শক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।’
মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন ছাত্ররা। গুলিতে ঝরে যায় তরুণ প্রাণ—সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই। সেই আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে শহীদ মিনার—আমাদের অহংকার, আমাদের চেতনা।



