সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয়–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এসব অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের দাবি জানিয়েছে।
আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে গুটিকয়েক দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছিল, তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করে সরকার আসলে কী বার্তা দিতে চায়? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি কি কেবল ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল?
টিআইবি মনে করে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ থেকে সরে আসা অত্যন্ত হতাশাজনক।
একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, এতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান দুর্বল করা হলে তা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
টিআইবি বলেছে, যাচাই–বাছাইয়ের নামে যদি আইনগুলো দুর্বল করা হয় বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মঘাতী হবে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পশ্চাৎপদতা তৈরি করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দুদকের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন বাছাই ও পর্যালোচনা কমিশন গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা উচিত।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের সমালোচনা করে সংস্থাটি বলেছে, এতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয় প্রতিফলন নেই। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন করে একটি কার্যকর ও স্বাধীন তথ্য কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
টিআইবি জোর দিয়ে বলেছে, যেসব অধ্যাদেশ স্থগিত বা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে আইনে পরিণত করতে হবে।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে চারটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং ১৬টি এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে। এই তালিকায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ, দুদকের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশও আপাতত স্থগিত রেখে পরে সংশোধন করে বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে টিআইবি বলছে, সংস্কার প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো দ্রুত ও হুবহু বিল আকারে সংসদে পাস করা জরুরি।



