রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যাওয়া বাংলাদেশি তরুণদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাসহ সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে প্রলোভনে পড়ে রাশিয়া যাওয়া ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ তাদের। বিকল্প নিরাপদ অভিবাসনের পথ তৈরি না হলে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামানো কঠিন, মনে করেন তারা।
বিস্ফোরণ, মৃত্যু আর যুদ্ধের রক্তাক্ত বাস্তবতার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন মুন্সিগঞ্জের মোহন মিয়াজী।সামরিক বাহিনীর জন্য ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে তাকে রাশিয়ার যুদ্ধ ক্ষেত্রে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
মোহন জানান, তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রুশ সেনাদের মরদেহ বহনের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ২ বছর আগে ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ভালো আয়ের আশায় রাশিয়া যান তিনি।
রাশিয়া যুদ্ধ ফেরত মোহন মিয়াজী বলেন, যখন আমরা প্রথম যাই, রাস্তার পাশে দেখি মরদেহ পড়ে আছে। আতঙ্ক লেগেছে স্বাভাবিকভাবে। যেখানে যাই, সেখানেই লাশ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কতজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, জানে না কেউ। মার্চে দুটি বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন জানায়, যুদ্ধে যাওয়া ১০৪ বাংলাদেশির মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৪ জন।
বিশেষেজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার বিষয়ে ইমিগ্রেশনের রেড সিগন্যাল থাকা উচিত।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, রেড সিগন্যাল থাকা উচিত। রাশিয়ায় যাওয়া মানেই, তাদের কোনো না কোনোভাবে সম্ভাবনা আছে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার। ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত যুদ্ধ। আমাদের চেষ্টা করতে হবে, যারা সেখানে গেছে তাদের নিরাপদে ফেরত নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা। আর সামনে যেন না যায়।
বিকল্প নিরাপদ অভিবাসন না হলে চলমান এই ধারা বন্ধ করা কঠিন, বলছেন তারা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, যাওয়ার সময়ও স্মাগলিং হচ্ছে, আবার ওখানে ভালো অবস্থায় থাকার পরও আরও ভালো অবস্থায় থাকার জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। দেশের মধ্যে ভালো চাকরি বা ভালো ইমিগ্রেশন না হলে এটা ঠেকানো সম্ভব না।
মানবপাচারে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের স্থানীয় এজেন্টদের শনাক্ত করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য দিয়ে সরকারকে প্রচারণা চালাতে হবে।



