পদ্মা-ব্যারেজ নির্মাণ করা গেলে বাড়বে খাদ্য উৎপাদন। পানি ধরে রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে পারলে এ প্রকল্প নতুন মাইল ফলক হতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নদী বিশ্লেষকেরা বলছেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প শুরুর আগে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন জরুরি। শুষ্ক মৌসুমে পানির সঠিক হিস্যা না পেলে ব্যারেজের সুফল আসবে না। আগামীতে নদীর পলি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ দেখছেন পরিবেশ আন্দোলনকারীরা।
ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে। এতে বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকায় পানির প্রবাহ মারাত্মক হ্রাস পায়। গড়াই, মধুমতি, হিসনা, মাথাভাঙ্গা, চন্দনা, বারাশিয়া, বড়াল, ইছামতি নদী শুকিয়ে বালুচর হয়। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬ জেলা পানি সংকটে পড়ে। নদীর প্রবাহ কমায় সুন্দরবন অঞ্চলে বাড়ছে লবণাক্ততা।
পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদি জলনিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণ করবে সরকার। পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা থেকে পদ্মায় পানি দশ হাজার কিউসেকেরও কম আসে। সে সময় ব্যারাজ দিয়ে ২৯০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ১৯৯৭ সালের চুক্তি অনুমোদন হয়ে গেছে, কেন সরকার এটাতে স্বাক্ষর করছে না। তারা তা করে ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করবে। ভারতে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
উজানে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে গঙ্গা নদীর স্বাভাবিক পলি প্রবাহের গতি কমেছে। আবার ভাটিতেও একটি ব্যারাজ হলে নতুন করে পলি ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই ব্যারেজের সুফল পেতে পলি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনা বিশেজ্ঞ মালিক ফিদা এ. খান বলেন, যখন এ প্রকল্প শেষ হবে, তখন পলিগুলো কোথায় পড়ছে সেটা দেখে ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা রাখতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, পানি ব্যবস্থাপনায় দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হবে পদ্মা ব্যারাজ। তবে, ২০১০ সালে এডিবির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর নির্ভর না করে নতুন সমীক্ষা জরুরি।
রিভারাইন পিপল’র মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন টন পলি দরকার, সেখানে ফারাক্কার কারণে ৩০০ মিলিয়ন টন আটকা পড়ে গেছে। এসব কারণে নদী উঁচু হয়ে গেছে, ভাঙন দেখা দিয়েছে। নতুন করে যাচাই হয়নি। এটা তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩৪ হাজার কোটি টাকায় প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ সঠিক নির্মাণ হলে বাড়তি ২৬ লাখ টন খাদ্য ও আড়াই লাখ টন মাছ উৎপাদন বাড়বে।



