স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে ২২ বারে ২০ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করলেও মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছেন মাত্র ৪ জন। তারা হলেন, বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ, আবদুর রহমান বিশ্বাস, ইয়াজউদ্দীন আহমদ এবং আবদুল হামিদ। অন্যরা মেয়াদের আগেই দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে। পদে থাকাকালে খুন হন শেখ মুজিবর রহমান ও জিয়াউর রহমান। স্বাভাবিক মৃত্যু হয় একজনের।
সংবিধান অনুযায়ী ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও ৩ বছর ৪ মাসের মাথায় শুক্রবার বিকেল পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন। শারিরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ হলেও আছে নানা গুঞ্জন।
৪০ মাসের সময়কালে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতিকে আওয়ামী লীগ, অন্তবর্তী ও বিএনপি, ভিন্ন ধারার তিন তিনটি সরকারের সাথে কাজ করতে হয় যা আর কখনো হয়নি। এ সময়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও এবং তা ঠেকাতে দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েনের মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে।
২০০২ সালের মাঝামাঝি সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করেন দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে। তার মতো আরও অন্তত চারজনকে এভাবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
১৯৮২ সালে মাত্র ১০ মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে অপসারণ করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রয়াত স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এর আগে-পরে দেশে সামরিক শাসন জারির পূর্বাপর পরিস্থিতিতে দুই রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও আহসান উদ্দীন চৌধুরীকে পদ ছাড়তে হয় দুই বছরের কম সময়ে।
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ সরকারের সময় টানা দুই দফায় ১০ বছরেরও বেশি সময় পূর্ণমেয়াদ রাষ্ট্রপতি ছিলেন মো. আবদুল হামিদ। তার আগে রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমান মেয়াদপূর্তির কাছাকাছি সময়ে মারা যান।
বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দীন আহমদ মেয়াদ শেষ করে কিছুদিন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। আর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে পূর্ণ মেয়াদে ছিলেন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তবে দুই দফায় রাষ্ট্রপতি হলেও দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ শেষ করতে পারেননি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।



