নির্বাচন যে কী ভীষণ বস্তু, তা এ দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এক নির্বাচনকে ঘিরে ফিরে এল প্রায় ভুলতে বসা হরতাল, অবরোধ। সেই সাথে বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো যোগ হয়েছে সহিংসতা, ধরপাকড় ও প্রাণহানি। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে নির্বাচনের কারণে সাধারণ মানুষের মৃত্যু পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এত বছরেও আমরা রাজনৈতিক সাবালকত্ব অর্জন করতে না পারায় আজ নির্বাচন নামের একটি উৎসব ধুন্ধুমার যুদ্ধে পর্যবসিত হয়েছে।
জাতীয় অধ্যাপক জ্ঞানতাপস অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪৫ সালে গবেষণার উদ্দেশ্যে লন্ডনে গিয়েছিলেন। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বামপন্থী রাজনীতিক অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কির অধীনে তাঁর গবেষণার কথা ছিল। শুরুও করেছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক রাজ্জাকের গবেষণা শেষ হওয়ার আগেই (২৪ মার্চ, ১৯৫০) লাস্কির মৃত্যু হয়। ফলে গবেষণা নিবন্ধটি লিখলেও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ের ইতি টেনে দেশে ফেরেন তিনি। অনেক পরে তাঁর এই শেষ না হওয়া গবেষণাপত্র বই আকারে বের হয়েছে।
‘পলিটিক্যাল পার্টিজ ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ওই গবেষণা সন্দর্ভের শুরুতেই অধ্যাপক রাজ্জাক লিখেছেন, ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো আদপে রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ, তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল যেকোনো মূল্যে বিদেশি শাসকদের (ব্রিটিশ) ভারত–ছাড়া করা। কিন্তু বিদেশিরা গেলে তারা কীভাবে দেশ চালাবে, মানুষের উন্নয়ন করবে—তার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। ফলে সীমিত লক্ষ্য নিয়ে তাদের আর রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠা হয়নি।
মাঝে মধ্যে এই ভেবে ভ্রম হয়, অধ্যাপক রাজ্জাক বেঁচে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কে একই মন্তব্য করতেন কি না? কারণ, ঘটনাপরম্পরায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্যই হলো ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকা। খালি চোখে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের এই চাওয়ার মধ্যে দোষের কিছু পাওয়া যায় না। কিন্তু পন্থা যখন পাল্টে যায়, তখন বিপদে পড়ে সাধারণ মানুষ, যাদের জন্যই আসলে রাজনীতি করা। প্রকৃতপক্ষে আমরা যে শাসনব্যবস্থা বা রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি, সেখানে ভিন্নতর ভাবনার অবকাশ আছে কি না, সেটা ভেবে দেখা জরুরি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলেও আমরা আসলে ব্রিটিশ শাসনের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি। এই উপমহাদেশের তিন দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। কিছুদিন আগে ভারতে সে দেশের সংবিধানের মৌলিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখনো সেই বিতর্ক অমীমাংসিত। এই বিতর্ক যাঁরা তুলেছেন, তাঁদের বক্তব্য হলো—১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া ভারত শাসন আইন একটু এদিক-ওদিক করে এবং এর সাথে আমেরিকা ও অন্য দেশের সংবিধানের সামান্য সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এই সংবিধান তৈরি। এ নিয়ে জোর গলায় বিতর্ক করার সুযোগ কম। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে শুরু করে সংসদীয় ব্যবস্থা—সবই ব্রিটিশদের সূত্রে পাওয়া।
ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যে গণতন্ত্র বা সংসদীয় ব্যবস্থার সূচনা ১২১৫ সালে ম্যাগনা কার্টা দলিলের মাধ্যমে। অর্থাৎ, আট শ বছরের বেশি সময় ধরে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এই ব্যবস্থা চলেছে। তারপরও কতটা পরিপক্ব হয়েছে এই ব্যবস্থা? গত এক বছরের কথাই ধরা যাক। নানা সমস্যার কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন লিজ ট্রস। তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ৪৯ দিন। ক্ষণস্থায়ী মেয়াদকাল লিজকে ব্রিটিশ ইতিহাসে রেকর্ড গড়ার সুযোগ দিয়েছে। এরপর এলেন ঋষি সুনাক। কিন্তু তিনিও প্রথম থেকে নড়বড়ে। কিন্তু ভোটের ভয়ে ভীত ব্রিটিশ এমপিদের কারণে তিনি এখনো এদিক-ওদিক করে চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে যুক্তরাজ্য, যা তাদের আট শ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। মোদ্দা কথা হলো—ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে এত বছরে ব্রিটিশরা যদি সব সমস্যার সমাধান না করতে পারে, তাহলে তাদের অনুসরণকারীরা এর চেয়ে কম সময়ে তা থেকে বেরিয়ে আসবে কী করে?
ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থায় একটা বড় সমস্যা হলো—সংখ্যাগরিষ্ঠের দাপট। তবে এই ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের দল নয়। ধরা যাক, কোনো সংসদীয় আসনে তিনজন প্রার্থী আছেন। গণনার পরে দেখা গেল, এরা তিনজন প্রদত্ত ভোটের যথাক্রমে ৩৪, ৩৩ ও ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নিয়মানুযায়ী প্রথমজন জয়ী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ওই আসনের ১০০ জনের মধ্যে ৬৬ জনের ভোট না পেয়েও তিনি জয়ী হয়েছেন। ঠিক একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলো ৩৫-৪০ শতাংশ ভোট পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে দেশ শাসনের অধিকার পেয়ে যায়। এই ২০০৫ সালে মাত্র ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে লেবার পার্টি ৩৫৫ আসনে জিতে ব্রিটেনে সরকার গঠন করে। এমনকি ১৯৫১ সালে মোট ভোট কম পেয়েও লেবার পার্টিকে হারিয়ে কনজারভেটিভরা সরকার গঠন করেছিল। ফলে এই সংখ্যার মারপ্যাঁচে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থার এক বড় দুর্বলতা হলো, এটা যেকোনো দেশের সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে শেষ পর্যন্ত দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় পর্যবসিত করে। এসব দেশে নামে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ থাকলেও শেষমেষ বড় দুটি দলই যা বলে, সেটাই হয়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ অনেক দেশের উদাহরণই দেওয়া যায়। আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারতের কথাই ধরুন। সেখানে দলের নাম গুনে শেষ করা কঠিন। কিন্তু ১৯৪৭-পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী লড়াই মূলত কংগ্রেস ও অ-কংগ্রেস দলের মধ্যে সীমিত ছিল। বর্তমানে সেটিই ঘুরে গেছে বিজেপি-অবিজেপিতে। আমাদের এখানেও অনেক দল থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শেষ কথা বলে থাকে। আর এই ব্যবস্থায় জয়ের পর সব ক্ষমতা মোটামুটি বড় দলের কুক্ষিগত থাকে। যে কারণে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড হেইলশাম ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে নির্বাচিত স্বৈরাচার বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
এই ব্যবস্থার আরও সমস্যা হলো, যে দল বা জোট জিতে যায়, তা যত অল্প ব্যবধানে হোক না কেন তারা প্রতিপক্ষকে গোনার মধ্যেই ধরে না। অর্থাৎ, নিয়মের ফেরে সংখ্যার দাপট চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এই ব্যবস্থায় প্রকট। সে কারণে বিবদমান দলগুলো সব সময় জেতার জন্য মরিয়া থাকে। আর এ থেকেই সব সমস্যার উদ্ভব।
তাহলে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির বিকল্প কী? একটি বিকল্প খুবই আলোচিত—সেটা হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব। অর্থাৎ, যে দল যত ভোট পাবে, সেই অনুযায়ী আইনসভায় আসন পাবে। এই ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশের কম ভোট পেয়ে কোনো দলের পক্ষে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া অসম্ভব। ফলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের একটি প্রতিচ্ছবি আইনসভায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থায় একটা অভিযোগ এখন নিয়মিত শোনা যায়—নির্বাচনে জিততে গেলে অর্থ ও পেশিশক্তি অত্যন্ত জরুরি। এটা বাস্তবও বটে। কিন্তু ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দলগুলো পেলে তারা নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে আইনসভার জন্য নির্বাচিত করতে পারবে। ফলে দলগুলো চাইলে, অর্থ বা পেশিশক্তির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। মনে রাখা ভালো, মাঠের রাজনীতি করা আর দেশ পরিচালনা—দুটো ভিন্ন বিষয়। পরের বিষয়ে সম্যক জ্ঞানের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাও জরুরি। ফলে ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর দিয়ে যে বিষবাষ্প ঢুকে গেছে, তা দূর করার জন্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

এখন আমরা যদি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা মেনে নিই, তাহলে নির্বাচনে কোনো দল দশমিক ৩৪ শতাংশ ভোট পেলেই তারা জাতীয় সংসদে অন্তত একটি আসন পাবে। এতে একটি রংধনু সংসদ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশ্বে বর্তমানে যেসব দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলছে, তাদের ৬৫ শতাংশই এই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। কমনওয়েলথভুক্ত নিউজিল্যান্ড ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থা থেকে সরে এসে নিজেদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে মিক্সড মেম্বার প্রোপোরশনাল (এমএমপি)। এই ব্যবস্থায় সে দেশের পার্লামেন্টে ১২০টি আসনের মধ্যে ৭২টি; অর্থাৎ, ৬০ শতাংশ আসনে প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচিত হন। বাকি ৪৮টি আসন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। তবে শর্ত হলো ভোটপ্রাপ্তি থেকে আসন পেতে যেকোনো রাজনৈতিক দলকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়; অথবা ৫ শতাংশ আসনে সরাসরি ভোটে জিততে হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে দেশটি এই ব্যবস্থা অনুসরণ করছে। আমাদের নিকট প্রতিবেশী নেপালও নিউজিল্যান্ডের মতো মিশ্র ভোট ব্যবস্থা চালু করেছে। নেপালের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ ও স্টেট অ্যাসেম্বলির ৬০ শতাংশ আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মধ্যমে প্রার্থীরা বিজয়ী হন। বাকি ৪০ শতাংশ আসনে দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করে। সেজন্য নেপালিরা স্টেট অ্যাসেম্বলি ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচনে দুটি করে ভোট দেন: একটি প্রার্থীকে, অন্যটি দলকে।
কিন্তু এই ব্যবস্থাও যে পুরোপুরি নিখুঁত—এমনটা বলা যাবে না। এর বড় সমালোচনাই হলো রংধনু আইনসভা নিয়ে, যেখানে বড় দলকে সরকার গঠন ও টিকিয়ে রাখার জন্য ছোট দল বা দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। এমনকি বাজেট বা কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রেও ছোট শরিকদের নানা দাবি, যুক্তি, আবদার মানতে হয়। এই নির্ভরশীলতা কখনো কখনো জোটের বড় শরিকের সরকার পরিচালনার যোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। আরেকটি কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। এই মতের সমর্থকদের জন্য, রংধনু আইনসভা বড়ই বিপজ্জনক। আবার এই সমর্থকেরা গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত: সবাইকে নিয়ে চলা এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর বিষয়টিকে অবজ্ঞা করেন। এতসবের পরও গণতন্ত্রের পথে চলা ৬৫ ভাগ দেশ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা মেনে চলছে।
মোদ্দা কথা হলো, যে ব্যবস্থাই আমরা মানি না কেন, আগে দরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি অঙ্গীকার। ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অবিভক্ত ভারতে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনের সাথে খিলাফত আন্দোলন যুক্ত হওয়ার পর তা অন্য মাত্রা পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশদের তখন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সে সময় উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরা নামক স্থানে আন্দোলনকারীরা থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ২৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এই হিংসাত্মক ঘটনার পরই গান্ধী তাঁর অহিংস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এক ঘোষণাতে ধ্বংস হয়ে যায় ব্রিটিশদের ভারত–ছাড়া করার গণ-উন্মাদনা।
গান্ধীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন ভারতের জাতীয় পর্যায়ের নেতারা। সুভাষচন্দ্র বসু একে ‘হিমালয়ান ব্লান্ডার’ বলে অভিহিত করেন। জেলবন্দি চিত্তরঞ্জন দাশ বলেন—‘সারা জীবনের মতো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল।’ আর মোতিলাল নেহরু বলেছিলেন—‘একটি স্থানের জনতার পাপের জন্য গান্ধীজি দেশবাসীকে শাস্তি দিলেন।’ কিন্তু গান্ধী ছিলেন অনড়। সেদিন তিনি এই সিদ্ধান্ত না নিলে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হলেও তা অহিংস আন্দোলনের মূলগত ভাবনাকে ধ্বংস করে দিত। আর এ আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে থাকত না, চলে যেত স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষায় উন্মাতাল সাধারণ জনতার হাতে। এই জনতার রাশ টেনে ধরার মতো কোনো যোগ্যতা তৎকালীন ভারতীয় নেতাদের ছিল না।
এর শেষ কথাই হলো গণতান্ত্রিক পথে চলতে হলে নির্বাচন ছাড়াও এর অন্য শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ হতে হবে। তবেই হয়তো আমরা নির্বাচনের ব্যাপারেও একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব। আর একটি গণতান্ত্রিক সমাজই হলো রাজনৈতিক দলগুলোর বিকশিত হওয়ার পূর্বশর্ত।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল মিডিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন



