চিন্তা শুধু বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে?

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৭ পিএম

‘আমি ভোটের লাগিয়া ভিখারী সাজিনু/ ফিরিনু গো দ্বারে দ্বারে/ আমি ভিখারী না শিকারি গো/ আমায় আসল কেউ বলিল না...’—বহুকাল আগে দাদাঠাকুর শরচ্চন্দ্র পণ্ডিত এই ‘ভোট রঙ্গের গান’ লিখেছিলেন। এখন থাকলে কী লিখতেন কে জানে? গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রার্থীদের সমর্থকেরা যেভাবে মারামারি শুরু করেছেন, তাতে কাউকে আর ‘ভোটের লাগিয়া ভিখারী’ বলে মনে হচ্ছে না।

বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ ভোটের দিন ধার্য আছে। ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রচার চলবে। এই সময়কালে না জানি কী ধুন্দুমার ঘটে। সারা দুনিয়া আমাদের নির্বাচনের দিকে যেভাবে তাকিয়ে আছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাদের যে সানুগ্রহ অপেক্ষা, তার সাথে ঠিক এই পিটাপিটি যায় না। কিন্তু কী করা! গণতন্ত্র যখন অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, সে লড়াইয়ে কিছু উলুখাগড়ার প্রাণ না গেলেও শরীরে যে ক্ষত তৈরি হবে, সে ব্যাপারে নিন্দুকেরাও একমত হবেন। তাহলে অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ভোট একপেশে হওয়ার সুযোগ খুবই কম। প্রার্থীরা কেউই ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ পণ করেই নেমেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ অফিশিয়াল ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ বিষয়ে একবগ্গা।

এখন যাঁরা বাইরে থেকে আমাদের এই ভোটরঙ্গের দিকে আগ্রহভরে তাকিয়ে আছেন, তাঁদের মন্তব্য জানতে আমরাও অপেক্ষায়। তবে এ নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, ভোটের প্রচার নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং সেটা যেকোনো মূল্যে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো বা প্রার্থীরা না চাইলে এই সংঘাত বন্ধ, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্রসম বাক্যবাণ নিক্ষেপ বন্ধ করা সম্ভব না—এই অজুহাত দেখিয়ে কমিশনের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেটা করলে তার অযোগ্যতাই প্রমাণিত হবে।

এই পিটাপিটির কথা বলতে গিয়ে একটা কথা তো বলাই হলো না। ২০২৪ সালে বিশ্বের দেশে দেশে যে নির্বাচন হতে চলেছে, তার পর্দা উঠছে কিন্তু বাংলাদেশ দিয়ে। আগামী বছর নির্বাচনের দৌড়ে কত রাঘববোয়াল আছে শুনলে আপনি চমকে উঠতে পারেন। যারা এই বিশ্বকে একটি নতুন ধারায় আনতে অদম্য প্রয়াস নিয়ে এগোচ্ছে, তারা প্রায় সবাই আছে। এই প্রয়াসে বাংলাদেশের নির্বাচন যে সবার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে, তাতে গর্ব বোধ হওয়ার কথা।

কষ্ট করে গুগলে একটু খুঁজলেই দেখতে পাবেন, ২০২৪ সালে অন্তত ৫৭টি দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নির্বাচন হবে। এই দেশগুলোতে চার শ কোটির ওপরে মানুষের বাস, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোট হবে। এবার ৫৭টি দেশের তালিকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের নাম দেখা যাক। আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত, ইরান, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা, পাকিস্তান; আর নাম বলার দরকার আছে? তাহলে বুঝতেই পারছেন, আগামী বছর এসব দেশ থেকে যাঁরা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরাই আসলে বিশ্বের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের ঠিকাদার। বলতে পারেন, এখানে চীনের নাম নেই কেন? চীনে যে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা প্রচলিত আছে, সেখানে এই ধারার কোনো নির্বাচন নেই। আর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তো সি জিনপিংকে আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট ও দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েই রেখেছে। ফলে এখানে বিতর্কের অবকাশ নেই।

এবার একটু মাসওয়ারি দেখা যাক। ৫৭টি দেশের মধ্যে ২৩টি দেশের ভোটের তারিখ সবার জানা হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে ভারত, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়নি। ৭ জানুয়ারি আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পরই প্রতিবেশী ভুটানের ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ হবে। গুরুত্বপূর্ণ দেশের তালিকায় তাইওয়ানের নাম দেখে অনেকে চমকে উঠেছিলেন। এবার সে প্রসঙ্গে আসি। ছোট্ট এই দ্বীপটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে ১৩ জানুয়ারি। কিন্তু চীন এই নির্বাচনকে ভালোভাবে দেখছে না। আবার আমেরিকা চায়, তাইওয়ানের বর্তমান মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকুক। এ নিয়ে দুই পরাশক্তির বাক্যবাণ ও পেশিশক্তির প্রদর্শন চলছেই।

তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির পতাকা হাতে সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স চীন তাইওয়ানকে নিজের অংশ বলেই মনে করে। আমেরিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলে। ফলে তাদেরকেও সেটাই বিশ্বাস করতে হয়। ‘এক চীন’ নীতির কথা মুখে বলা হলেও তাইওয়ান আসলে একটি সার্বভৌম দেশের মতো করে টিকে আছে। এটা চীনের চক্ষুশূল। তারা তাইওয়ানকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে অঙ্গীভূত বদ্ধপরিকর। এর জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করতে রাজি নয় সি জিনপিং–এর চীন। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে চীন। তাইওয়ার এবং তার বন্ধু আমেরিকা ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো তা মানতে চায় না। গোলটা বেধেছে সেখানেই। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি এগিয়ে আছেন, সেই লাই চিং-তে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে দেশটির সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে চান। ভোটারদের এই মনোভাব বুঝে চীন সরকারিভাবে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে, তাইওয়ানবাসীকে ‘যুদ্ধ অথবা শান্তির’ মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। সব মিলিয়ে অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে পিছু হটলে ‘উঠতি পরাশক্তি’ হিসেবে চীনের মর্যাদা ঘা খাবে। অন্যদিকে তাইওয়ান চীনের সাথে মিশে গেলে কেউ আর হয়তো বিশ্ব মোড়ল হিসেবে আমেরিকার শৌর্য–বীর্যকে গোনায় ধরবে না। ফলে তাইওয়ানকে ঘিরে যদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি আমেরিকা ও বিশ্বের কারখানা বলে পরিচিত চীন সংঘাতে জড়ায়, তাহলে ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সবার কল্পনারও বাইরে। এক রাশিয়া-ইউক্রেন, দুই ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের জের টানতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। সেখানে আবার আমেরিকা-চীন! আর আমরা আছি শুধু ৭ জানুয়ারি নিয়ে।

ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ ও ১৪ তারিখে মুসলিম বিশ্বের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয় নির্বাচন। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্বাচন নিয়ে যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়াহীন পশ্চিমা বিশ্বের রূপ দেখে আসলেই অনেকে বাক্রুদ্ধ। আর ইন্দোনেশিয়ার কথা না বলাই ভালো। সে দেশের শাসন ক্ষমতায় এলিট ব্যবসায়ী সমাজ ও সেনাবাহিনীর বজ্র আঁটুনি ঢিলে করার কোনো প্রয়াস ২০ কোটি ভোটারের মধ্যে নেই। সুযোগও নেই।

মার্চে ইরান ও রাশিয়ায় নির্বাচন। ইরানে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন হয়। ফলে সেখানে যে–ই জিতুন না কেন, নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর ১৭ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আর কোনো কথা চলে! ফলে ২০২৩-এর দুনিয়া ২০২৪-এ পাল্টাবে, এই স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস কারও আছে?

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে সংসদের নিম্নকক্ষ বা লোকসভা নির্বাচনে ভোট নেওয়া হতে পারে এপ্রিল ও মে মাসে। যদিও এখনো তারিখ ঠিক হয়নি। হাওয়া যেদিকে যাচ্ছে, তাতে নরেন্দ্র মোদির তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা আটকানো ক্রমশ কষ্টকল্পনায় পরিণত হচ্ছে। মোদি প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে সে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হিন্দু জাতীয়বাদী গণতন্ত্রে রূপ দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আরএসএস-এর কাশ্মীর, রামমন্দিরসহ একাধিক এজেন্ডা পূরণ করেছেন, করে চলেছেন। আগামী জানুয়ারি মাসে সরকারি উদ্যোগে মহাসমারোহে ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের স্থানে তৈরি রামমন্দিরের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হিন্দিবলয়ে হিন্দু-প্রাণনাথ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার এই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগাবেন তিনি। ২৫ কোটির ওপরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (মুসলমান, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও অন্যান্য) বাস সেখানে। প্রচণ্ড হিন্দু আধিপত্যবাদ নিয়ে ফিরে আসা নরেন্দ্র মোদির সাথে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা কীভাবে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিরূপণ করে, সেটাই দেখার। কানাডায় শিখ নেতা নির্জ্জার হত্যা ও আমেরিকায় অপর শিখ নেতা পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দুপক্ষের সম্পর্কে সন্দেহের বিষ ছড়িয়ে রেখেছে। শুধু চীনকে রুখতে চাওয়া সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আসলে কতটা সহায়ক হবে, দুপক্ষের জন্য বলা কঠিন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এ বছর পার্লামেন্ট নির্বাচন। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এএনসি ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায়। দু বছর আগে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে ম্যান্ডেলা-পরবর্তী এএনসি প্রথমবারের মতো মোট ভোটের ৫০ শতাংশের কম পেয়েছে। এর পেছনে এএনসি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ অনেকাংশে দায়ী, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এএনসির এই ক্ষীয়মাণ জনপ্রিয়তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। যা আসলে শুধু আফ্রিকা মহাদেশে নয়, সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টে যেতে পারে অনেক সমীকরণ।
যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে হাউস অব কমন্সের নির্বাচন হওয়ার কথা। নড়বড়ে ঋষি সুনাক সরকারের কথা মনে রেখে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ নির্বাচন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিব পার্টির ফিরে আসার সুযোগ কম। ধরেই নেওয়া হচ্ছে, পরবর্তী সরকার গড়বে লেবার পার্টি। তবে এই লেবার পার্টির প্রধান হয়তো টনি ব্লেয়ারের ভূমিকা পালন না-ও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বদলে যেতে পারে।

২০২৪-এ ইউরোপে আরও নয়টি দেশে ভোট হওয়ার কথা। এর প্রায় সব দেশেই দক্ষিণপন্থী দলগুলোর উত্থান হতে চলেছে। একই ধরনের আশঙ্কা আছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচন নিয়ে। সেখানে দক্ষিণপন্থীদের প্রতাপ। ব্রেক্সিট–পরবর্তী এই ভোটের পর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে দক্ষিণপন্থীরা তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন পার্লামেন্টে অভিন্ন ইউরোপের ভূমিকা কী হবে—তা এখনই হয়তো কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এত দিন যে পথে হেঁটেছে, সেই চলার পথ বদলাতে পারে।

বাঁয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স এত এত দেশের নির্বাচনের কথা বলতে গিয়ে আসল দেশের কথাই বলা হয়নি। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন— আমেরিকা। আগামী বছরের ৫ নভেম্বর নির্বাচন। এক বছরের কম সময় হাতে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরে আসা নিয়ে সবাই চিন্তিত। গত ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ওই রাজ্যের ব্যালটে ট্রাম্পের নাম রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পবিরোধীরা একে হয়তো বড় জয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলছে, আদালত যত খড়গহস্ত হচ্ছেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে। কলোরাডোর ঘটনাও এর ব্যতিক্রম হবে না। এরপরও কলোরাডো একটি সুইং স্টেট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজে এর ভোট মাত্র ১০। মোট ভোট ২৭০। গতবার সেখানে ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের জন্য এত চিন্তার কিছু নেই।

এর প্রমাণ নিউইয়র্ক টাইমসের নভেম্বরের জরিপ। ওই জরিপে ৫৯ শতাংশ আমেরিকান আস্থা রেখেছেন ট্রাম্পের ওপর। সেখানে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওপর আস্থা মাত্র শতকরা ৩৭ জনের। গত ১৯ ডিসেম্বর ওই একই পত্রিকা আরও একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, বাইডেন যেভাবে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দিচ্ছেন, তাঁকে যাঁরা অনুমোদন করেন, তাঁদের চেয়ে অনুমোদন না করাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ, বাইডেন শুধু জনপ্রিয়তার নিরিখে ট্রাম্পের চেয়ে পেছাচ্ছেন না, একের পর এক এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা অধিকাংশ আমেরিকান অনুমোদন করেন না। অর্থাৎ, আমেরিকান ভোটারদের মনের কথা পড়তে ব্যর্থ বাইডেন। আদালত দিয়ে আর কত ঠেকানোর চেষ্টা করবেন?

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ মহল এটা জানে, প্রথম দফার ট্রাম্প আর এবারকার ট্রাম্প এক নন। আগের চেয়ে অনেক গোছানো। অল্প কিছুদিন আগে পুতিনকে উদ্ধৃত করে ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। এরপর আর কিছু বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট অনেক আগেই বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় বসার পরদিনই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। জেলেনস্কি তো এই ভয়ে কাতর। এ কারণে বাইডেন থাকতে থাকতে তিনি সবকিছু আদায় করে নিতে চান।

একই ভয়ে কাতর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো। গাঁটের পয়সা খরচ করে তিনি ইউরোপীয়দের নিরাপত্তা দিতে নারাজ। বরং সেই পয়সায় তিনি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ করবেন। তাইওয়ানের মতো ছোট একটা দ্বীপ নিয়ে তিনি চীনের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সাথে অহেতুক লাগতে চান না। বরং বাণিজ্য ইস্যুতে চীনকে টাইট দিতে চান। এ জন্য ট্রাম্প ও তাঁর সতীর্থরা ঘোষণাই দিয়েছেন, সব আমদানি পণ্যে গড়ে ১০ শতাংশ লেভি বসবে। এই তালিকায় বাংলাদেশও থাকতে পারে। আসলে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে বিশ্বে মুক্তবাণিজ্যের যে ধারা তৈরি হয়েছে, ৩০ বছর পর ট্রাম্প তা থেকে ফিরে আসতে চলেছেন। এর প্রভাব পুরো বিশ্ববাণিজ্যে পড়বে। চীন কেন, কেউই রক্ষা পাবে না। অর্থাৎ, ট্রাম্প আমেরিকাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেন, যেখানে আমেরিকার স্বার্থ, আমেরিকার সাফল্যই একমাত্র উপাস্য। এতদিন ধরে যাঁরা বিশ্বকে ভুবনগ্রাম বানালেন, তাঁরাই এখন একে আবার ছোট ছোট দ্বীপে ভাঙতে চাইছেন। বিষয়টা কেমন হলো?

সবশেষ দেখুন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হারার পরই অভিযোগ তুলেছিলেন, ভোট চুরি করে তাঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। একের পর এক মামলা হওয়ার পরও তিনি তাঁর অভিযোগ থেকে সরে আসেনি। এই ট্রাম্পই এখন মার্কিন ভোটারদের নয়নের মণি, জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এরপরও কি সেলুকাসের কাছে কেউ জানতে চাইবেন, বাংলাদেশের নির্বাচন আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এই ভুবনগ্রামে এক প্রশ্নের উত্তর পড়ে সব পরীক্ষায় পাস করা যায় না।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
আমি বলছি না যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ খেয়েছে। কিন্তু যে জনসংযোগ–লবিং প্রতিষ্ঠান এত নিখুঁতভাবে এই প্রচার অভিযান সাজিয়েছে, বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা নিশ্চয়ই মোটা...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পদ্মা ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে...
সুফল পেয়ে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যান চলাচলের চারটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দাবি করে, সড়কে আরও দুটি অপরাধ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুরতলায় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর