রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হামলার যুগপূর্তি আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চায় নিহতদের পরিবার।
২০১৩ সালের ৫ মে। রাজধানীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। সকাল থেকেই বেশ কয়েকবার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কয়েকজন নিহত হলেও চালিয়ে নেওয়া হয় সমাবেশ।
হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সরাতে মধ্যরাতে কঠোর হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজত নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিতে মুহুর্মুহু গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর কী ঘটে তা ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য।
২০১৩ সালের ১০ জুন মানবাধিকার সংস্থা অধিকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে ওই রাতের ঘটনায় ৬১ জন নিহতের কথা বলা হয়। তাদের একজন সাভারের মাদ্রাসাছাত্র আল আমিন। এই হত্যার বিচার দীর্ঘ ১১ বছরেও চাইতে পারেননি বলে অভিযোগ তার ভাইয়ের।
নিহত আল আমিনের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন ভাইয়ের মরদেহ এমনভাবে বাড়িতে নিতে হয়েছে, যেন মনে হয়েছে, অসুস্থ কোনো রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। কয়েকদিন মতিঝিল থানা থেকে কল করে পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়। পরে আমরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানাই। এমন একটা পরিস্থিতি ছিল, আমাদের ভাই মারা গেছে, আমরা কারও কাছে বিচার দেওয়া তো দূরের কথা, কারও কাছে কিছু বলতেও পারতাম না।’
ঘটনায় দিন হেফাজতের নেতা-কর্মীদের খাবার বিতরণে সেখানে যান বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। তারা জানিয়েছে, ঘটনার রাতে অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছেন তারা। অনেক ফাঁকা ময়লার গাড়ি গিয়েছিল সেখানে। আর ময়লার ডাম্পিং স্টেশনে মানুষের কঙ্কাল দেখার কথাও জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের এক গাড়িচালক।
এদিকে, নিহতের তালিকা তৈরি করায় অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে আইসিটি মামলায় কারাবাসও করতে হয়।
এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, যারা মারা গিয়েছিল এরা অনেকেই এতিম ছিল। মাদ্রাসায় থাকত। এতিম থাকার কারণে কেউ তাদের খোঁজ করেনি। আবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পরে আর কোনো তথ্য রাখেনি।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনাল থেকে আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মারা যাওয়াদের বাড়িতে বাড়িতেও গিয়েছে ট্রাইব্যুনালের দল।’
শাপলা চত্বরের ঘটনায় চলতি বছরেরে মার্চে শেখ হাসিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবন্যাল।



