স্কুল ও কলেজ জীবনে পত্রমিতালি করতে গিয়ে নানা সময় আমাকে প্রধান পোস্ট অফিসে যেতে হয়েছে। আবার প্রেমপত্র পোস্ট করতেও নিয়মিত পোস্ট অফিসে যেতাম। তখন তারুণ্য ছিল। সাহিত্য ম্যাগাজিন ও সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করে পাঠকের কাছে পাঠাতে আমাকে প্রধান পোস্ট অফিসে যেতে হতো। এভাবে নানা সময় আমি পোস্ট অফিসে গিয়েছি।
এরপর দীর্ঘ বিরতি, পোস্ট অফিসে যাওয়া হয় না। মাসখানেক হলো দেশে এলাম। আগামী মাসে আমাদের বিবাহবার্ষিকী, আবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। ভাবলাম স্ত্রীকে দুটো কার্ড পোস্ট করব।
কার্ড দুটো কিনে খামে ভরে ঠিকানা লিখে আমার বাসার কাছে মহিলা কলেজের সাব পোস্ট অফিসে নিয়ে গেলাম। অফিসের পোস্ট মাস্টার খাম দেখে বললেন, এটা এখান থেকে পোস্ট করা যাবে না। আমাকে প্রধান পোস্ট অফিসে যেতে হবে।
পোস্ট মাস্টারের কথা অনুযায়ী, প্রধান পোস্ট অফিসে গেলাম। গিয়ে দেখি পুরোনো পোস্ট অফিসের জায়গায় এখন খাবারের দোকান; রেস্টুরেন্ট।
একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে পোস্ট অফিস ছিল, এটা কোথায়। ভদ্রলোক আমাকে বললেন, নতুন বিল্ডিংয়ে পোস্ট অফিস স্থানান্তরিত হয়েছে।
নতুন বিল্ডিংয়ে গিয়ে দেখলাম খুব একটা ভিড় নেই। মানুষজন কম।
পোস্ট অফিসের রেজিস্টারি কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়ালাম। কর্তব্যরত পোস্ট মাস্টারকে বললাম, চিঠিখানা পোস্ট করব। তিনি চিঠি হাতে নিয়ে বললেন, ‘ঠিকানাও ভালো করে লিখতে পারলেন না। এভাবে কি ঠিকানা লেখে?’
আমি কথা না বাড়িয়ে বললাম, ‘ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না।’
‘ভেতরে কী আছে?’
‘দুটো কার্ড আছে।’
কর্তব্যরত মাস্টার বললেন, ‘আপনার মোবাইল নম্বর লিখুন। যাকে পাঠাবেন তারও মোবাইল নম্বর লিখুন। পরের কাউন্টারে গিয়ে ওজন করিয়ে টিকিট লাগিয়ে নিয়ে আসেন।’
টিকিট যখন সাঁটাতে গেলাম, আবার সেই একই কথা। তিনি আবার আগের মাস্টারকে জিজ্ঞেস করলেন। অনুমতি নিলেন। তারপর ওজন করে ৩০৬ টাকার টিকিট সাঁটিয়ে বললেন, ‘আগের কাউন্টারে যান।’
সবকিছু শেষ করে যখন আবার পুরোনো মাস্টারের কাছে আসলাম। আবার বলে উঠলেন, ‘ঠিকানাখানাও ঠিকমতো লিখতে পারলেন না।’
আবারও বিনীতভাবে বললাম, ‘ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না।’
এই করে করে একটি চিঠি পোস্ট করতে আমার আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে।
এইসব পোস্ট মাস্টারদের কারণে মানুষ সেবা না পেয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের দিকে চলে যাচ্ছে। আর সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
পোস্ট মাস্টারকে বলতে মন চাইল, যেভাবে ঠিকানা লিখেছি, এভাবে লিখে জীবনের স্বর্ণযুগ শেষ করে এসেছি। ঝামেলা করতে চাই না বলে, না বলেই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
সিলেট, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
লেখক: ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার প্রবাসী



