অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্যাম্পবেলটাউন আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলর মাসুদ খলিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পশ্চিম সিডনির মিন্টোস্থ রন মুর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর প্রার্থিতার ঘোষণা দেন এবং স্থানীয় ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
২০২৭ সালের মার্চে নিউ সাউথ ওয়েলসে পরবর্তী স্টেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মাসুদ খলিল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান দুটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে এসব দল জনগণের ভোটকে অনেকটা স্বাভাবিক প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। ফলে জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার প্রতি যথাযথ মনোযোগের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে।
মাসুদ খলিল বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন কমিউনিটি ভয়েস অব অস্ট্রেলিয়া (সিভিএ)-এর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য সরকারি সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল ও বৃহৎ স্টেটগুলোর একটি। এর রাজধানী সিডনি। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় মাসুদ খলিল একজন নির্বাচিত স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য তাঁর রাজনৈতিক পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো—তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে একটি সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার নজির স্থাপন করেন। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা, অবকাঠামো ও অধিকার নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় তিনি একজন সক্রিয় ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা জানান।
অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পটভূমির অনেক রাজনীতিবিদ স্টেট ও ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে স্টেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অস্ট্রেলিয়ায় স্টেট বা ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়তে পারেননি।
এই বাস্তবতায় স্থানীয় সরকারে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মাসুদ খলিলের স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অস্ট্রেলিয়ার তিন স্তরের সরকার ব্যবস্থার মধ্যে স্টেট সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, পরিবহনসহ জনগণের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেবার দায়িত্ব পালন করে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার স্টেট পর্যায়ের আইনসভায় প্রবেশের লক্ষ্যে মাসুদ খলিলের এই যাত্রা শুরু হলো।
ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর খালেদ হালাবির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রার্থিতা ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাসুদ খলিলের দীর্ঘদিনের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর নতুন রাজনৈতিক যাত্রার জন্য শুভকামনা জানান।
প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পবেলটাউন আসনে ২০২৭ সালের এনএসডব্লিউ স্টেট নির্বাচনের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হলো। স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন নিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাসুদ খলিল শেষ পর্যন্ত কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন—এখন সেটিই দেখার বিষয়।



