কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জগতে আলিবাবার উপস্থিতি নতুন নয়। ২০২৩ সালেই ‘কোয়েন’ নামের লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম) নিয়ে হাজির হয় জ্যাক মা’র প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি। এবারে নতুন একটি ফাউন্ডেশনাল এআই মডেল নিয়ে এসেছে আলিবাবা। মাল্টিমডাল এই এআই মডেলটি টেক্সট, ইমেজ, অডিও ও ভিডিও সবই প্রসেস করতে পারে। ল্যাপটপের পাশাপাশি স্মার্টফোনেও অ্যাক্সেস করা যাবে নতুন এই মডেলটি। সম্প্রতি দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতি (২৭ মার্চ) আলিবাবা তাঁদের নতুন এআই মডেল- কোয়েন২.৫-অমনি-৭বি- রিলিজ করেছে। কোয়েন পরিবারের নতুন এই সদস্যের আগমনে জেনারেটিভ এআই’র বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল আলিবাবা। উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন এই মডেলটি ওপেন সোর্স, ফলে তৃতীয়-পক্ষ ডেভেলপার বা প্রতিষ্ঠান চাইলে এই মডেলটিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করতে পারেন।
‘কোয়েন২.৫-অমনি-৭বি’ নামের মাল্টিমডাল এআই মডেলের কল্যাণে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাঁদের দৈনন্দিন কাজে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। এক বিবৃতিতে আলিবাবা জানিয়েছে যে, নতুন এই মডেলটি বিভিন্ন ধরণের ইনপুট (টেক্সট, ইমেজ ও অডিও-ভিডিও) থেকে তৎক্ষণাৎ (রিয়েল টাইমে) টেক্সট বা অডিও আকারে আউটপুট জেনেরেট করতে সক্ষম।
কোয়েন পরিবারের নতুন এই সদস্যটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে (রিয়েল টাইমে) অডিও ডেসক্রিপশন জেনারেট করতে পারে। আবার রান্নার উপকরণ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে রান্নার নিয়ম পর্যন্ত বলে দিতে পারে।
বহুমুখী সক্ষমতার এই মডেলটি স্পষ্ট করেই ইঙ্গিত করছে যে, এআই টুলের ব্যবহার এখন আর কেবল টেক্সট জেনারেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির এখন বহুবিধ ব্যবহার তৈরি হয়েছে।
ডিপসিকের তুলনায় কোয়েনের নতুন এআই মডেল কতটা শক্তিশালী
গত জানুয়ারিতে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করে বাজারে আসে চীনের ডিপসিক এআই অ্যাসিসট্যান্ট। ডিপসিকের কল্যাণে এআই খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে চীনে। আলিবাবাও নতুন এই প্রবণতার সুফল ভোগ করেছে। এআই সক্ষমতা বিচারের ক্ষেত্রে ডিপসিক এখন নতুন মানদণ্ড হয়ে উঠেছে। ঠিক যেমন ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটি ও গুগলের জেমিনি।
আর তাই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে, ডিপসিকের তুলনায় কোয়েন২.৫-অমনি-৭বি মডেলটি কতটা শক্তিশালী। এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। কেননা আলিবারের নতুন মডেলটি মাত্রই রিলিজ করা হয়েছে। ফলে ডিপসিকের সাথে বিস্তারিত তুলনার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তবে কয়েকটি দিক দিয়ে ডিপসিকের সাথে একই কাতারে দাঁড়াতে পারে কোয়েনের নতুন মডেলটি। ডিপসিকের মতোই কোয়েনের সাম্প্রতিক মডেলটিও ওপেন সোর্স এবং দুটোতেই বিভিন্ন ধরণের ইনপুট প্রদান করা যায়। ডিপসিকের ভি৩ (ভিথ্রি) ও আর১ (আর ওয়ান) দুটি মডেলই ফাউন্ডেশনাল। একইভাবে কোয়েন২.৫-অমনি-৭বি মডেলটিও ফাউন্ডেশনাল। ফলে অন্তত চীনের বাজারে ডিপসিকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সকল সক্ষমতাই আছে আলিবাবার তৈরি নতুন এআই মডেলটির।
তথ্যসূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট



