চীনের এআই প্রতিষ্ঠান ডিপসিক তাঁদের ‘আর১’ (আর ওয়ান) এআই মডেলের একটি আপডেটেড বা উন্নত সংস্করণ নিয়ে এসেছে। এই রিজনিং এআই মডেলের উন্নত সংস্করণটি রিলিজ করা হয়েছে ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে। গত ২৮ মে (বুধবার) চীনের স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া উইচ্যাটে ‘আর১’ এর আপডেটেড ভার্সন নিয়ে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ডিপসিক।
উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে ডিপসিক জানিয়েছে, এমআইটি লাইসেন্সের অধীনের তাঁরা আপডেটেড আর১ মডেলটি রিলিজ করছে এবং এটি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে। তবে এতে বড় ধরণের কোনো আপডেট আনা হয়নি। ছোটখাটো কয়েকটি পরিবর্তন এনেই নতুন এই আপডেটেড সংস্করণটি রিলিজ করেছে ডিপসিক।
হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মটিতে আর১-এর আপডেটেড সংস্করণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের উল্লেখ নেই। আছে শুধু কনফিগারেশন ফাইলস ও ওয়েট বা প্যারামিটার- এই দুটো আভ্যন্তরীণ ফিচারই একটি এআই মডেল কীভাবে সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
‘আর১’ রিজনিং এআই মডেলের আপডেটেড ভার্সনটির ওয়েট হচ্ছে ৬৮৫ বিলিয়ন প্যারামিটার, এ দিক থেকে মডেলটি আগের ভার্সনের তুলনায় বেশ শক্তিশালী। তবে নতুন এই ভার্সনটি কনজ্যুমার-গ্রেড হার্ডওয়্যারে ব্যবহার করতে হলে মডিফিকেশনের প্রয়োজন পড়তে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিপসিক তাঁদের এআই অ্যাসিসট্যান্ট টুল ও ‘আর১’ রিজনিং এআই মডেলটি নিয়ে আসার মাধ্যমে এআই’র বাজারে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করে। ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যানথ্রপিক, এক্সএআই’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এআই মডেল তৈরিতে সেখানে তাদের ভগ্নাংশ পরিমাণ খরচে তৈরি হয়েছে ডিপসিকের ‘আর১’।
ওপেন-সোর্স (উন্মুক্ত উৎসের) এবং বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ডিপসিক আর১ মডেলটি বাজারে আসার পর আমেরিকার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই শেয়ার বাজারে ১ ট্রিলিয়ন ডলার হারায়, যার মধ্যে শুধু এনভিডিয়ার শেয়ারেই দরপতন হয় ৫৯৩ বিলিয়ন ডলার।
পরবর্তীতে আমেরিকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ডিপসিক এআই-কে তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ ঘোষণা করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে ডিপসিকের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে, এমনকি নিষিদ্ধও করা হয়েছে কয়েকটি দেশে। কিন্তু এর পাশাপাশি অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আলিবাবার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিপসিকের এআই মডেলকে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করতেও শুরু করেছে।
তবে ডিপসিকের ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চীনে। বিগত কয়েক মাসে চীনের এআই প্রযুক্তি খাতে ‘পোস্টার বয়’ হয়ে উঠেছে ডিপসিক এআই। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, চীনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যেই চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিবিষয়ক কোর্স।
তথ্যসূত্র: টেনক্রাঞ্চ, রয়টার্স, সিএনএন


ডিপসিক: আমেরিকাকে কাঁপিয়ে দিল চীন
