দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে নিজেদের স্থানীয় কার্যক্রম (অপারেশন) বন্ধ করতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। এর মাধ্যমে দেশটিতে তাঁদের ২৫ বছরের উপস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পাকিস্তানে তাঁদের অপারেশনাল মডেলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই দেশটিতে মাইক্রোসফটের অফিস বন্ধ হতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার (৪ জুলাই) প্রযুক্তিবিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাইক্রোসফটের একটি সূত্র।
অফিস বন্ধ করলেও পাকিস্তানের স্থানীয় গ্রাহকদের সেবা দিতে মাইক্রোসফট বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে স্থানীয় রি-সেলার এবং দেশটির কাছাকাছি অবস্থিত মাইক্রোসফটের অফিসের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গ্রাহকদেরকে সেবা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে।
শুক্রবার ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফটের মুখপাত্র বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ফলে আমাদের গ্রাহক সেবা ও গ্রাহক চুক্তি প্রভাবিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই মডেলটি সাফল্যের সাথে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে অনুসরণ করছি। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আমাদের গ্রাহকরাই, এবং ভবিষ্যতেও তাঁরা একই প্রকার উন্নতমানের পরিষেবা আশা করতে পারেন।’
সূত্রের মাধ্যমে টেকক্রাঞ্চ জানতে পেরেছে, মাইক্রোসফটের এমন সিদ্ধান্তে দেশটিতে তাঁদের অফিসে কর্মরত ৫ কর্মী চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান অফিসে মাইক্রোসফট কোনো ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়নি, যেমনটা তাঁরা ভারতসহ অন্যান্য উঠতি বাজারগুলোতে করেছে।
দেশটিতে মাইক্রোসফটের প্রস্থান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি মাইক্রোসফটের ‘ওয়ার্কফোর্স-অপটিমাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ’। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শুরুতে প্রায় ৯ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছে মাইক্রোসফটে- অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যা ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পাকিস্তানে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফট আরও আগেই নিয়েছিল এবং সে অনুযায়ী তাঁরা প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। যার প্রমাণ মেলে, পাকিস্তানে গ্রাহকদের লাইসেন্সিং ও বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যবস্থাপনার কাজটি তাঁরা বিগত কয়েক বছরে তাঁদের ইউরোপিয়ান হাব আয়ারল্যান্ডে স্থানান্তর করে। অন্যদিকে, গ্রাহকদের প্রতিদিনকার পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে অনুমোদনপ্রাপ্ত স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এমনটাই জানিয়েছে।
মাইক্রোসফটের প্রাক্তন নির্বাহী- এবং পাকিস্তানে মাইক্রোসফট অফিসে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম ব্যক্তি- জাওয়াদ রেহমান নিজের লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক পোস্টে মাইক্রোসফটের পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। বিষয়টিকে তিনি পাকিস্তানের জন্য ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের টেকসই ব্যবসায়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানে মাইক্রোসফটের অপারেশন বন্ধের খবরটি এমন সময়ে এল যার কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, দেশটির ৫ লাখ তরুণের জন্য গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে তাঁরা। গুগলও গত বছর জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের শিক্ষা খাতে তাঁরা ১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
তা স্বত্বেও মাইক্রোসফটের প্রস্থানে পাকিস্তানের প্রযুক্তি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো আরও একবার সামনে চলে এসেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশ যখন পশ্চিমা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদেরকে ইঞ্জিনিয়ারিং আউটসোর্সিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তখন পাকিস্তানের প্রযুক্তি খাত স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং হুয়াওয়ের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
তথ্যসূত্র: টেকক্রাঞ্চ



