রাজধানীতে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’। দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে আয়োজিত এই এক্সপো আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি ইতিমধ্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সপোর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে সরকার তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে। এগুলো হলো সর্বজনীন কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
তিনি বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতে ‘অ্যাক্টিভ শেয়ারিং’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্দীপনামূলক কর কাঠামো প্রয়োজন, যা বর্তমানে যথেষ্ট নয়।’ তিনি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) খাতের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান।
এক্সপোতে বক্তারা জানান, দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে সঠিক নীতি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে আগামী পাঁচ বছরে এটি ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
আইএসপিএবি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ‘এই খাতে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তবে বর্তমানে নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে, বাকিটা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ‘অ্যাক্টিভ শেয়ারিং’ চালু হলে এই অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।’
এছাড়া ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ট্রান্সমিশন রেট এক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার (এফটিএসপি) নাম পরিবর্তন করে আবার ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার’ নামটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ)-এর ব্যবহার নীতিমালাও পুনর্বিবেচনা করা হবে।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইএসপি লাইসেন্স নবায়ন ও অ্যাক্টিভ শেয়ারিং–সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য 'লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার'।
এই এক্সপোতে ব্রডব্যান্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এবারের আয়োজনে রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ২০টি স্টল।
এক্সপোর অন্যতম আকর্ষণ ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’। এখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রায় ২৫টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। রোবটিকস, আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) এবং অন্যান্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এতে করে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
এক্সপোটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড ও সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। এছাড়া ডায়মন্ড ও গোল্ড ক্যাটাগরিতেও রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই এক্সপো আগামী ১৫ এপ্রিল শেষ হবে।



