যুক্তরাষ্ট্রে কিছু আইফোন ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে অ্যাপল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন সুবিধা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হওয়া এক মামলার নিষ্পত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার জমা দেওয়া সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, অ্যাপল কোনো ধরনের ভুল স্বীকার করেনি। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়াতে ২৫ কোটি ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, অ্যাপল তাদের নতুন এআই প্রযুক্তি ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষ করে সিরি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও উন্নত ও ব্যক্তিগত এআই সহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে সেই সুবিধাগুলো পাওয়া যায়নি।
সমঝোতা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যারা আইফোন ১৫ ও আইফোন ১৬ কিনেছেন, তারা ২৫ থেকে ৯৫ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
অ্যাপলের এক মুখপাত্র জানান, মামলাটি মূলত ‘অতিরিক্ত দুটি ফিচারের প্রাপ্যতা’ নিয়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টির সমাধান করেছি, যাতে ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য তৈরির কাজে মনোযোগ দিতে পারি।’
গত সপ্তাহে সংশোধিত অভিযোগপত্রে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, অ্যাপল এমন কিছু এআই সুবিধার প্রচার করেছে, যা তখন ছিল না, এখনো নেই, এমনকি আগামী কয়েক বছরেও নাও আসতে পারে।
তাঁদের ভাষায়, ‘অ্যাপল যেসব এআই সুবিধাকে যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে প্রচার করেছে, তার অনেকগুলোরই বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না।’
আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়েই অ্যাপল দ্রুত এআই নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক অনেক দিন ধরেই নতুনত্বের অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে আছেন। মামলায় বলা হয়, অ্যাপল দাবি করেছিল যে নতুন সিরি সাধারণ ভয়েস সহকারী থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত এআই সহকারীতে রূপ নেবে। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, আইফোন ১৬ বাজারে আনা হলেও এতে প্রতিশ্রুত ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ সুবিধা ছিল না, আর উন্নত সিরিও আসেনি।



