ইংরেজি ‘ক্যানিবাল’ শব্দের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘নরখাদক’- অর্থাৎ, যে মানুষ অন্য মানুষের মাংস ভক্ষণ করে থাকে। এবারে বিজ্ঞানীরা এমন একটি মডেল রোবট বা রোবটের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন যেটা নিজের আকার বাড়াতে ও নিজেকে শক্তিশালী করতে অপেক্ষাকৃত ছোট রোবট ‘খেয়ে’ থাকে।
আক্ষরিক অর্থে না খেলেও ছোট ছোট রোবটকে ব্যবহার করেই বড় রোবটটি নিজের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিষয়টিকে ‘রোবট মেটাবলিজম’ নামে আখ্যায়িত করেছেন গবেষকরা। অটোনোমাস (স্বয়ং-চালিত বা স্ব-শাসিত) রোবটের বিকাশে একে বড় এক পদক্ষেপ ও সাফল্য হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীদের তৈরি রোবটের প্রোটোটাইপটি এর চারপাশের পরিবেশ থেকে উপাদান একত্রিত করে, বা অন্য রোবট ‘খেয়ে’ (কনজিউম করে) নিজেকে সুস্থ ও আরও উন্নত করে তুলতে পারে, এবং নিজের আকৃতিও বৃদ্ধি করতে পারে। এভাবে নিজেকে আরও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি শারীরিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও অতিক্রম করতে পারে অভিনব এই রোবটটি- যেটি তৈরিতে গবেষকরা ‘রোবট মেটাবলিজম’ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন।
‘রোবট মেটাবলিজম’ প্রক্রিয়ায় একটি ডিভাইস বা যন্ত্র (এক্ষেত্রে রোবট) নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তার চারপাশে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে নিজের সাথে সমন্বয় বা একীভূত করতে পারে এবং তা পুনরায় ব্যবহার করতে পারে। উল্লেখ্য, রোবটের প্রোটোটাইপ তৈরি সম্পর্কিত বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রটি গত ১৬ জুলাই সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
আমেরিকার কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক এবং গবেষণাটির প্রধান ফিলিপ মার্টিন ওয়াইডার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সত্যিকারের অটোনমি মানে রোবট কেবলমাত্র নিজের জন্য চিন্তা করবে তাই নয়, শারীরিকভাবেও এটি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।’
তিনি আরও বলেন যে, ‘জৈবিক জীবন যেমন সম্পদ আহরণ ও একত্রিত করে, ঠিক তেমনি এই রোবটগুলোও তাদের পরিবেশ বা অন্যান্য রোবটের উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের আকার বৃদ্ধি করে, খাপ খাইয়ে নেয় এবং নিজেদের মেরামত করতে পারে।’
এই প্রোটোটাইপ রোবটটি তৈরিতে একাধিক ‘ট্রাস লিংক’ ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই ট্রাস লিংক হচ্ছে ছয় পার্শ্বযুক্ত ও চৌম্বকীয় কানেকটরযুক্ত একটি লম্বা দণ্ড বা রড। চৌম্বকীয় কানেকটরের কল্যাণে এই ট্রাসগুলো অন্যান্য মডিউলের সাথে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে।
এই মডিউলগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী একত্রিত ও বিচ্ছিন্ন করা যায়। ট্রাসে সংযুক্ত চৌম্বকীয় কানেকটরগুলোর সহায়তায় রোবটটি অনবরত আরও জটিল কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়। রোবটটির এই সক্ষমতাই ভবিষ্যতে একদিন ‘স্বয়ংক্রিয় টেকসই মেশিন ইকোলজি’ হয়ে উঠবে বলে আশা করেন নির্মাতারা।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স


বায়ুমণ্ডলে বিরল ‘স্প্রাইট’ ক্যামেরাবন্দী করলেন নাসা’র নভোচারী
মঙ্গল গ্রহের শৈলশিরায় মিলেছে নতুন তথ্য
মঙ্গল গ্রহের গ্যাস থেকেই তৈরি হবে টেকসই এনার্জি সিস্টেম!
