এক্স প্ল্যাটফর্মে (পূর্বের টুইটারে) বিজ্ঞাপন প্রচার করা থেকে ইউরোপীয় কমিশনকে বিরত রেখেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটি। ব্লু টিক ব্যাজ ইস্যুতে গত শুক্রবার এক্স প্ল্যাটফর্মকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে ইউরোপীয় কমিশন। এরপর দু’দিন যেতে না যেতেই এক্সে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ হারাল কমিশন।
এক্সের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা নিকিতা বিয়ার অভিযোগ করে বলেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শুক্রবারের জরিমানা সম্পর্কিত পোস্ট প্রচারের জন্য তাঁদের বিজ্ঞাপন প্রচার পদ্ধতিতে বিদ্যমান একটি ‘ত্রুটির সুযোগ’ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আপনারা (ইউরোপীয় কমিশন) বিশ্বাস করেন যে বিজ্ঞাপন প্রচারের নিয়মগুলো আপনাদের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আপনাদের বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্টটি বাতিল করা হয়েছে।’
ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে বলেছেন যে, কমিশন ‘সবসময় সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে।’
উল্লেখ্য, এক্স প্ল্যাটফর্মের ওপর আরোপিত শুক্রবারের জরিমানটি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা আইনের (ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের) অধীনে প্রথম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, এক্স প্ল্যাটফর্মের ব্লু টিক ব্যবস্থাটি ‘প্রতারণামূলক’, কেননা প্রতিষ্ঠানটি ‘সত্যিকার অর্থে ব্যবহারকারীদের যাচাই করছে না।’ উল্লেখ্য, ব্লু টিক আছে এমন অ্যাকাউন্টগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে যে, এই প্রতারণা ব্যবহারকারীদের ছদ্মবেশে প্রতারণার মতো বিভিন্ন ধরণের জালিয়াতির সম্মুখীন করে। পাশাপাশি তাদেরকে প্রতারক চক্রের বিভিন্ন ধরণের কারসাজির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে।’
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে যে, এক্স প্ল্যাটফর্ম তাঁদের বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং গবেষকদেরকে পাবলিক ডেটা অ্যাক্সেসের সুযোগ দিচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ব্লু টিকমার্ক সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে এক্সকে ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে আরও বড় শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে মাক্সের এক্স প্ল্যাটফর্মকে।
১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা ঘোষণার পর ইলন মাস্ক এক্সে পোস্ট করে বলেন যে, ‘ইইউ বিলুপ্ত হওয়া উচিত’। এছাড়া ইইউ’র কার্যকলাপ ও আচরণকে ফ্যাসিবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এমন একটি পোস্ট রিটুইটও করেছেন মাক্স।
এক্স প্ল্যাটফর্মকে জরিমানা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সুরে কথা বলেছে আমেরিকার ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। তাঁদের অভিযোগ, ইইউ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেন্সর করছে। এরই সাথে বলা হয়েছে যে, ‘অনলাইনে আমেরিকানদের সেন্সর করার দিন শেষ হয়ে এসেছে।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি



